নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পুলিশ জনতা আর জনতাই পুলিশ। পুলিশের এই চিরচেনা বাণীটি কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের কারনে আজ বিলীন হতে চলেছে। রক্ষক যখনই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখন সব কিছুই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

তেমনি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মতিউরের বিরুদ্ধে চেকপোষ্ট বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে! রীতিমত তার কর্মকান্ডে অনেকটা নাভিশ্বাস হয়ে পরেছেন ভূক্তভোগী সাধারন পথচারীরা। যিনি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগদানের পরপরই ভাল কর্মকান্ড চালিয়ে আসা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ্ পারভেজের গায়ে কলঙ্কের তিলক এটে দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন ভুক্তভুগীরা।

জনাগেছে, মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন তামাকপট্টি ব্রীজ এর সামনে চেক পোষ্ট বসিয়ে মোটর সাইকেল থেকে শুরু করে বাস, ট্রাক, কভার্ডভ্যানসহ সকল ধরনের যানবাহন আটকে তল্লাশির নামে বাণিজ্যে লিপ্ত হন সদর মডেল থানার এএসআই মতিউর।

তবে শুধু এদিনই নয়, এএসআই মতিউর যখনই তামাকপট্টি ব্রীজ এলাকায় চেকপোষ্ট চৌকি বসায় তখনই তিনি যেন হয়ে যান এখানকার বিগ বস।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার তামাকপট্টি এলাকায় দিয়ে চলাচলরত সাধারন পথচারীরা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রায়ই তামাকপট্টি ব্রীজের পুলিশ চেকপোস্টেও নামে এএসআই মতিউরের নানা রকমের হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমরা মোটর সাইকেলে মহিলাদের নিয়ে এই পথ দিয়ে চলাচল করলে পুলিশের এএস াই মতিউর গাড়ি থামিয়ে শরীর, মানি ব্যাগ তল্লাশি করেন। এমনকি মহিলাদের আলদা স্থানে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করেন তিনি। সাথে অবৈধ কিছু না পেলেও গাড়ির কাগজে ত্রুটি রয়েছে বলে মোটর সাইকেলের চাবি নিয়ে নেয়। পরে টাকার বিনিময়ে তাদের মোটর সাইকেল বা গাড়ির মুক্তি মিলে বলে জানায় তারা।

অপরদিকে মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মামুন মিয়া জানান, গত কয়েকদিন পূর্বে ঢাকার রায়েরবাগ থেকে বাড়ি তৈরীর নির্মাণ সামগ্রী কিছু কাঠ ভর্তি একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে তামাকপট্টি ব্রীজ দিয়ে যাওয়ার পথে তার গাড়িটি তল্লাশির নামে এক ঘন্টা আটকে রাখে পরে ১হাজার টাকার বিনিময়ে তার গাড়িটি ছেড়ে দেয় পুলিশের এএসআই মতিউর!

এদিকে অপর একটি সূত্র থেকে আরো জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে গরু বোঝাই কিছু ট্রাক চলাচল করে এই সড়কটি দিয়ে। আর এই চেকপোষ্ট বসিয়ে এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগায় পুলিশের এই অসাধু কর্মকর্তা এএসআই মতিউর। গরু কোথা থেকে আনা হয়েছে, বিক্রির কাগজ সাথে আছে কিনা এসব বিষয় জানতে চায়? ব্যবসায়ীরা তার প্রশ্নের উত্তরে বলে এগুলো গৃহস্থের কাছ থেকে তারা গরুগুলো কিনেছে জানালে দীর্ঘক্ষন গাড়ি আটকে রেখে অন্ধকারে তাদেরকে নিয়ে চুপি চুপি কাজ সেরে পরে গাড়ি যেতে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সচেতন মহলের দাবি সদর মডেল থানায় সদ্য যোগদানকারী অফিসার (ইনচার্জ) মীর মোঃ শাহীন শাহ পারভেজ যথেষ্ট সুনামের সহিত তার কর্ম পরিচালনা করে আসছেন। তার এই সুনামকে কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা বিলীন করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিনার ইনচার্জ মীর মো: শাহীন শাহ পারভেজ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘তামাকপট্টি ব্রীজ এলাকায় এমনি নিয়মিত ভাবে কোন চেকপোষ্ট নাই, যদি কোন অফিসারের ডিউটিরত থাকেন সেক্ষেত্রে হয়তবা তল্লাশি করতে পারেন। বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এএসআই মতিউরের ডিউটি বাতিল করার ব্যবস্থা করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here