নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সদর উপজেলাধীন পৃথক স্থানে জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠকে হানা দিয়ে ৫ নারীসহ ১১৭ জনকে আটক করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান ককটেল ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবী করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত শহর ও ফতুল্লায় র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়।

সকাল সাড়ে ১০ টায় সদর উপজেলার ফতুল্লা মডেল থানাধীন পাগলা হাই স্কুলে বসে নাশকতার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় জামায়াত শিবিরের ৪৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

দুপুর ১২ টায় মাসদাইরস্থ ইসলামিয়া আদর্শ মাদ্রাসায় জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠক চলাকালীন সময়ে পুলিশ হানা দিয়ে সেখান থেকে ৫ নারীসহ ৫৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো: মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, ‘শুক্রবার সকাল থেকে ফতুল্লার পৃথক দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠক থেকে ১০৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের নাম পরিচয় এখন প্রকাশ করা এখন সম্ভব নয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

অপরদিকে, শুক্রবার দুপুরে শহরের আমলাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল ইসলাম পিপিএম জানান, আমলাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নাশকতার পরিকল্পনায় জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠক চলাকালীন সময়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এছাড়াও, শহরের চাষাড়া থেকে নাশকতার মামলার আসামী মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি গোলাম সারোয়ার সাঈদকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় শহরের আমলাপাড়া প্রেসিডেন্ট রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বসতবাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, সাঈদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে চারটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সে দীর্ঘদিন যাবত আত্মগোপনে থেকে জামায়াত শিবিরের নাশকতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। জামায়াত শিবিরের কার্যক্রম সম্পর্কে আরো তথ্য সংগ্রহ করতে গ্রেফতারকৃত সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ফতুল্লার এনায়েতনগরে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী শামীম ওসমান প্রশাসনকে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করে বলেছিলেন, এইবারের নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জঙ্গীরা কি করবে আমি জানি। নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জঙ্গী মতবাদের প্রার্থী (জমিয়তে উলামায়ে জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী) কে মনোনয়ন দিয়েছে। সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে ইতোমধ্যে রাজধানী থেকে জামাত শিবিরের অর্ধশত জঙ্গি নারায়ণগঞ্জে এসে ঘাঁটি করছে। নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে তারা অবস্থান নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে তারা জঙ্গি কানেকশনে কাজ করছে। তাই প্রশাসন কে বলছি, গোফে তাও দিয়ে বসে থাকবেন না। আপনারা যদি এই জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেন, না পারেন, বলেন। তাহলে জনগণকে নিয়েই এই জঙ্গীদের প্রতিহত করবো। আর ছাড় দেওয়া হবে না। জনগনকে সাথে নিয়ে জঙ্গীদের প্রতিরোধ করার সেই ক্ষমতা আমাদের আছে।

আর শামীম ওসমানের এমন হুঁশিয়ারীর একদিন পরেই বিশেষ অভিযানে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here