নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ক্ষমতাসীন দল সত্ত্বেও জাঁকজমকের পরিবর্তে অনেকটাই ধীরগতিতে নারায়ণগঞ্জে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে আওয়ামীলীগ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল।
জানাগেছে, প্রায় ৮০ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি দ্বারা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাবে তখন সেই কার্যক্রমে ভাটা পরে।

পরবর্তীতে গত বছরের নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর চলতি বছরের ফতুল্লা থানা, সদর থানা, আলীরটেক, গোগনগর, বক্তাবলী, ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কুতুবপুর ও কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করে জেলা আওয়ামীলীগ।

কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন হওয়া সত্ত্বেও একনো অবদি বেশীরভাগ থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

একই অবস্থা বিরাজ করছে মহানগর আওয়ামীলীগেও। মহানগরের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা অনানুষ্ঠানিক ভাবেই এই কার্যক্রম শুরু করলেও শুরুতেই ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহের বই তুলে দেয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েন সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। এমনকি, শহরের দলীয় কার্যালয়ে সদস্য সংগ্রহের বই বিতরন কালেও তৃণমূলের তোপের মুখে পড়েন দলটির শীর্ষস্থানীয় এই দুই নেতা।

কিন্তু তেমন কোন ওয়ার্ডে এখনো অবদি আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দরা।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

অপরদিকে, শুরু থেকেই বেশ ঘটা করে বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সদস্য সংগ্রহের পরিবর্তে নবায়নই বেশী হয়েছে বিএনপির বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

কারন হিসেবে তারা বলেন, প্রায় এক যুগ যাবত বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থাকার পাশাপাশি বিনা কারনে বিভিন্ন মামলার শিকার হওয়ায়, বিএনপিতে নতুন সদস্য হতে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করেনি রাজনীতিবিদরা। তন্মধ্যেও যারা দলটির নতুন সদস্য হয়েছেন, তাও গোপণ রাখা হচ্ছে বলে জানান, দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।

তাই নতুন সদস্য হওয়ার পরিবর্তে সদস্য পদ নবায়ণ করেই কার্যক্রম শেষ করেছে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয়রা বলে দাবী করেছেন একাধিক নেতা।

তবে এপর্যন্ত বিএনপির কি পরিমান নতুন সদস্য সংগ্রহ হয়েছে, এব্যাপারে জানতে চাইলে তা কৌশলগত কারনে গোপন রাখা হয়েছে বলে জানান, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here