নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও অদ্যবধি দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমে কোনরূপ তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের। আর অনানুষ্ঠানিক ভাবে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুরুতেই বিতর্কের মুখে পড়েছে মহানগর আওয়ামীলীগ।
ফলে দীর্ঘ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও বিভিন্ন স্থানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বেশ জাঁকজমক ভাবেই দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও একই কার্যক্রম পরিচালনায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ।

জানাগেছে, চলতি বছরের গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি।

কিন্তু এরপর জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাবে দলটির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লেও গত ২৫ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনার পরেও অদ্যবধি সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে পারেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল। আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে, মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব পাওয়ার পর দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে পেয়েছিল আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা।

গত ২০ মে গণভবনে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর প্রায় ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৭ টি ওয়ার্ডে আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগ।

কিন্তু আহ্বায়ক কমিটি গঠন তো দূরের কথা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে উল্টো বন্দর থানাধীন ৯টি ওয়ার্ডে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে ‘চুপিসারে’ নতুন সদস্য সংগ্রহ করণে বই প্রদানের অভিযোগ করে তৃণমূল আওয়ামীলীগ।

তন্মধ্যেই গত ৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপিকে প্রধান অতিথি করে মহানগর আওয়ামীলীগ আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করার আয়োজন করলেও পরবর্তীতে অনিবার্য কারন বশ:ত সেই অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়।

এরপরেও তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা প্রত্যাশা করেছিলেন, দেরীতে হলেও আনুষ্ঠানিক ভাবেই দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ণ কার্যক্রম হয়তো বা শুরু করবে মহানগর আওয়ামীলীগ। কিন্তু সেটির পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক ভাবেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বই বিতরন করে ‘চুপিসারে’ দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল।

বিশেষ করে, বন্দর থানাধীন সিটির ৯ টি ওয়ার্ডে প্রকৃত নেতাদের কাছে বই বিতরন না করে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহের বই দেয়ায় মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে রীতিমত প্রতিবাদ সভাও করে ফেলেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

গত ২২ অক্টোবর বিকেলে নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড নবীগঞ্জে মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে এম এ রশীদ মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বন্দরে ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতাদের না জানিয়ে ‘হাইব্রীড’ নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহ বই তুলে দেওয়ার ঘটনায় বেশ মর্মাহত হয়েছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা। মহানগরের দায়িত্বশীল কতিপয় নেতা’র এমন আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এনিয়ে যদি কোন উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়ভার মহানগর আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।’

তবে তৃণমূলের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা উল্টো দাবী করেন, ‘বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি হচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের অধীন। তাই তিনি নাকি মহানগর আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন কথা বলার এখতিয়ারই রাখেন না।’

সর্বশেষ বিএনপি জামায়াত সমর্থিত হাইব্রীড জাতীয় নেতাদের হাতে সদস্য সংগ্রহ ফরম তুলে দিয়ে খোদ শহরের দলীয় কার্যালয়েই মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দদের তোপের মুখে পড়েন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা।

গত ১০ অক্টোবর শহরের ২নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর ২৩, ২৪, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড নেতাদের হাতে সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা দলীয় নতুন সদস্য ফরম তুলে দেয়ার পরপরই মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হুমায়ূন কবির মৃধা, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সাবেক সাধারন সম্পাদক সামছুজ্জামান, ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান শামীম ও ভুলুসহ বেশকিছু নেতা-কর্মী সাব কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতা শহীদুল্লাহকে বিএনপি নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এসময় আরেকটি অংশ হাবিবুর রহমান শামীমকে রাজাকারের নাতি হিসেবে আখ্যায়িত করে। এরপরই শহিদুল্লাহর পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দু’টি পক্ষ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের সামনেই বিরোধে জড়িয়ে পরে। বিরোধ এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়ার উপক্রম হলে অন্যান্য নেতাদের হস্তক্ষেপে একটি পক্ষ কার্যালয় ত্যাগ করেন। আর এই ঘটনাকে তুচ্ছ বলে হাসিমুখে উড়িয়ে দেন খোকন সাহা।

শুধু তাই নয়, এই দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়েও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন। মহানগরের ২৭ টি ওয়ার্ডে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ফরম আনলেও আনোয়ার হোসেন বড় হওয়ার স্বার্থে ৪ লাখ নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানান। আর সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা সত্যটা প্রকাশ করায় বিতর্কিত হয়ে যায় মহানগর আওয়ামীলীগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here