নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অবশেষে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহে তৎপরতা বেড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগে। পাশাপাশি সদস্য সংগ্রহ কালে নেতাকর্মীদের ‘কাউয়া’ ও ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের অনুপ্রবেশ রোধে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিচ্ছেন শীর্ষন্থানীয়রা।
জানাগেছে, গত বছরের মাঝামাঝিতেই এই কার্যক্রম শুরু হলেও জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় এবং মহানগর আওয়ামীলীগের ফরম বিতরনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠায় প্রথম পর্যায়ে ভেস্তে যায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান।

কিন্তু সম্প্রতি ফের সদস্য সংগ্রহে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রায় ৬ মাস পর গত ১ ফেব্রুয়ারী সদর থানা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘দলের সদস্য পদ দেয়ার সময় যেন কোন ‘কাউয়া’ প্রবেশ না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জামায়াত-বিএনপির ৬০ হাজার লোক আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছে। তারা নানান অপকর্ম করে সরকারকে বেকাদায় ফেলতে চেষ্টা করবে। যে কাউকে ফরম দেয়া যাবে না। তার পারিবারিক ইতিহাস জেনে দিতে হবে। কেননা, সদস্য হয়ে যেন কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করতে না পারে।’

আর গত ২ ফেব্রুয়ারী শহরের দলীয় কার্যালয়ে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরো বেগবান করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন।

তখন তিনি বলেন, ‘যারা আওয়ামীলীগ করেন তাদের হাতে দলের সদস্য ফরম তুলে দেয়া হবে। নারায়ণগঞ্জে একটা সময় ছিল যখন আমার মত আনোয়ার হোসেনও আওয়ামীলীগের সদস্য হতে পারতেন না। এখন অবস্থা এমন নেই, যারা দলকে ভালোবাসেন দল করেন তারাই দলের পদ পাবেন। তবে সদস্য সংগ্রহকালে দলের মধ্যে যেন ‘কাউয়া’ ও ‘হাইব্রীড’ নেতা ঢুকে না পরে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আর যেসব ওয়ার্ডে এখনো সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি সেসব ওয়ার্ডে দ্রুতই তা শুরু হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুলাই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপুমনি এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করে জেলা আওয়ামীলীগ।

কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাবে পরবর্তীতে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ভাটা পড়ে যায়। এরপর গত বছরের ২৫ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর জেলা আওয়ামীলীগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। আর সদর থানার মাধ্যমে শুরু হয় দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম। যা এখ নপর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চলবে বলে জানান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

অপরদিকে, নাসিকের অধীনস্থ ২৭টি ওয়ার্ডে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপুমনি এমপি কে দিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি থাকলেও অনিবার্য কারনে তা স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে অনানুষ্ঠানিক ভাবেই মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা দলীয় সদস্য ফরম বিতরন করলে তাতে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বন্দর থানা এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

এরপর শহরের দলীয় কার্যালয়েও সদস্য ফরম বিতরনকালে হাতহাতির ঘটনা ঘটলে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িক ভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

কিন্তু এখন আবারো এই সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরো বেগবান করতে তৎপরতা শুরু করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here