নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ক্ষমতাসীন দলের এমপি নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফতুল্লার নয়ামাটির দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোফাজ্জাল হোসেন চুন্নু। যার হাত থেকে এবার রেহাই পেল না এবার খোদ পুলিশ সদস্যরা।
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে এমনই ঘটনা ঘটে ফতুল্লা মডেল থানাধীন পূর্ব লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকায় সন্ত্রাসী চুন্নুর বাড়ীর সামনে।

সন্ত্রাসী বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টেড সন্ত্রাসী চুন্নু, বুইট্টা মাতবরসহ আরফান নামে আরেক আসামীকে গ্রেফতার করতে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আতাউর রহমান আফ্রাদের উপড় চড়াও হয় সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবার। এসময় দারোগা চুন্নু ও আফরানকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলে চুন্নুর স্ত্রী হাসিনা, বোন রোজিনা ভগ্নিপতি মনু মিয়া, ছোট ভাই রানা, ভাগ্নে মুন্না, সহযোগী নাহিদ, জনি, পলিন মিলে দারোগাকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করে আসামী চুন্নুকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ আসলেও ততক্ষনে সন্ত্রাসী চুন্নু পালিয়ে যায়। কিন্তু আফরানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তবে ঘটনানর সত্যতা স্বীকার করলেও লাঞ্ছনার কথা অস্বীকার করে এসআই আতাউর রহমান আফ্রাদ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘সন্ত্রাসী চুন্নুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল পূর্ব লামাপাড়া নয়ামাটি বাসী। তাই বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী চুনুœসহ কয়েকজনকে শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার করতে গেলে সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবার ঝামেলা করলে চুন্নু পালিয়ে যায়। আর আফরান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।’

আর ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল উদ্দিন জানান, ‘সন্ত্রাসী চুন্নুর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় ডজনের উপরে মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সন্ত্রাসী চুন্নুকে গ্রেফতার করতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা হাতাহাতির চেষ্টা করে। পরে চুন্নু পালিয়ে গেলেও আরফান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।’

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসী চুন্নুর পরিবারটি ঐতিহ্যগত ভাবেই অপরাধী পরিবার হিসেবেই অত্র এলাকাতে সুপরিচিত। চুন্নুুর দুই চাচা ও আপন একভাই উক্ত এলাকার অপর সন্ত্রাসী রকমত বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। অপর চাচা মনু মিয়া ফতুল্লাতে জামায়াত নেতা হিসেবেই সুপরিচিত।

চুন্নু তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে লামাপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিয়েছে। ইউরোটেক্স গার্মেন্টস, মাহমুদা গার্মেন্টস, রোজ গার্ডেন, রুপসীসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসার নামে অবৈধভাবে নিয়মিত মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যার নেপথ্যে রয়েছে চুন্নুর চাচা মনু মিয়া, চুন্নুর ভাই কুতুবপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, ছোট ভাই রানা মোল্লাসহ সঙ্গীয় বাহিনী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একাধিক অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী চুন্নু র‌্যাব পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে সাংসদ শামীম ওসমান ও মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এলাকায় চুন্নু তার বাহিনী পুরো নয়ামাটি লামাপাড়া এলাকাতে গড়ে তুলেছে বিশাল অস্ত্র ও মাদকের সা¤্রাজ্য। চুন্নু নিজেকে কখনও জেলা যুবলীগ আবার কখনও ফতুল্লা থানা যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে আর করছে বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here