নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সকাল ১০ টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হয় বিধায় সকাল সাড়ে ৮ টার মধ্যেই নগরীর টানবাজারস্থ বাসা থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরেছিলেন সুকান্ত সাহা।
কিন্তু নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখেন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস কাউন্টার গুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি থাকলেও বন্ধ ছিল গণপরিবহন গুলোর টিকেট কাউন্টার।

পরবর্তীতে তিনি দ্রুত চাষাড়া শীতল এসি বাস কাউন্টারে গিয়ে ঢাকা যাওয়ার সুযোগ পেলেও, যেই বাসে চেপে রওয়ানা হন ঢাকার উদ্দেশ্যে ঠিক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লাস্থ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম পৌাঁছানো মাত্রই সেই বাসটিকেও পুলিশ থামিয়ে দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া পাবে না বলে যাত্রীদের জানিয়ে যেন। এরপর বাস থেকে নেমে কর্মজীবি সুকান্ত সাহার মত অসংখ্য যাত্রী সাধারন কেউ টেম্পু কেউবা লেগুনায় চড়ে কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আর হঠাৎ করেই গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারন যাত্রীদের বাস কাউন্টার গুলোতে এসে দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এসময় অনেক যাত্রীই দূর্ভোগের জন্য প্রশাসনসহ সরকারী দলের পরিবহন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, রাজনীতি করবে আওয়ামীলীগ বিএনপি, আর অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে দূর্ভোগ পোহাবে সাধারন জনগণ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রবিবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আয়োজিত মহাসমাবেশকে ঘিরে শনিবার দিবাগত রাত থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

তন্মধ্যে ভোর থেকে চাষাড়া মোড় হতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী শীতল ট্রান্সপোর্টের এসি বাস চলাচল করতে থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টায় এই বাস চলাচলও বন্ধ করে দেয় প্রশাসন বলে অভিযোগ করেন সাধারন যাত্রীরা।

ফলে সাপ্তাহিক কর্মদিবসের প্রথমদিনে কর্মস্থলের পাশাপাশি নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার লক্ষ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে গণপরিবহন না পাওয়ার ক্ষোভে চরম দূর্ভোগে পরেন সাধারন যাত্রীরা। আর বিএনপির সমাবেশেকে ঘিরে ভোর থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়াকে পরিবহন ব্যবসায়ীদের অঘোষিত ধর্মঘট হিসেবে মন্তব্য করে ভুক্তভুগী যাত্রীগণ সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার পূর্বে সাধারন জনগণের কথা চিন্তা করার অনুরোধ জানান।

অপরদিকে, ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ থেকে সর্বাধিক লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সত্বেও নারাযণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢাকায় সমাবেশে যোগ দিতেও গণপরিবহন সংকটের কারনে চরম বিপাকে পড়তে হয়।

বাসের পরিবর্তে বেশীর ভাগ নেতাকর্মীকে ট্রাকে, ট্রেনে চেপে রাজধানীতে যেতে হয়েছে অভিযোগ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তারা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সরকার বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেয়ার ফলে নেতাকর্মীদের যাত্রাপথে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না। কিন্তু বিগত সময়ের ন্যায় এবারও নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে।’

তবে শুধু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডই নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোথাও গণপবিহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। এমনকি সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, বন্দর থেকে ঢাকাগামী চলাচল কারী সকল গনপরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়।

এঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, অত্যন্তপক্ষে রবিবারের সমাবেশে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা বিএনপির সমাবেশে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের পথিমধ্যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবেনা। কিন্তু অবৈধ সরকার ঠিকই গলপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে তাদের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে।’

মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ পন্ড করার জন্য সরকার গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা মানুষের বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তবে বাস বন্ধ করে দিয়ে সরকার সমাবেশে জনসমাগম রোধ করতে পারেনি।’

নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন জানান, ‘বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা গণপরিবহনে ভাংচুর, অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে বিধায় রবিবার ভোর থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচলে বন্ধে বাঁধা প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here