নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, পুরো বিশ্ব আজ এক সংক্রমক ব্যাধিতে আক্রান্ত। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের আঘাত হেনেছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় ভাইরাসের পাশাপাশি ক্ষুধার বিরুদ্ধেও আমাদের লড়তে হচ্ছে। দেশের বেশীরভাগ মানুষ খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপণ করছে আর এ জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। সরকারের অদূরদর্শীতার কারনে করোনা এদেশে ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। সরকারী ত্রাণ জনগনকে না দিয়ে কিছু দুস্কৃতিকারী আত্মসাত করছে। ফলে করোনার পাশাপাশি অভাবের সাথেও লড়তে হচ্ছে এদেশের মানুষকে।

চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পরা অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১২ বছর সরকার স্বাস্থ্য খাতে যে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে তা দিয়ে কোন চিকিৎসা সামগ্রী কেনা হয় নাই, সব লুটেপুটে খেয়েছে। যার ফলে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থ্য একেবারেই ভেঙ্গে পরেছে। তাই আপনারা সরকারের আশার বসে না থেকে সেলফ প্রটেকশন নিয়ে চলাফেলা করবেন, মাস্ক ব্যবহার করবেন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবেন। আমরা বিএনপির কারা নির্যাতিত চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া এবং আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমাদের সামর্থ অনুযায়ী আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বাংলাদেশেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরছে সর্বত্র। স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই, ঘোষনা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছিলো সরকার, কয়েক দফা বেড়ে ১৬ মে পর্যন্ত ঘোষনা হয়েছে সেই ছুটি। সেই সাথে দেশের সকল মার্কেট, সুপার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ঘোষনা করেছিলো দোকান মালিক সমিতি, বন্ধ হয়ে গেছে গন পরিবহন। শুধুমাত্র নিত্যপন্যের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া বাকী সব বন্ধ রয়েছে। সারাদেশের রাজনীতিবীদরা চেষ্টা করছেন করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে চলছে সাহায্য সহযোগিতা। সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। সকলকে সচেতন করছেন করোনার কবল থেকে মুক্তি পেতে সতর্ক থাকার জন্য। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকলকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে সরকার। আর যারা প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

করোনার প্রকোপ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পরেছেন। সেসব অসহায় মানুষকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করছে সরকার, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সমাজের সামর্থবান ব্যক্তিবর্গ। নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে করোনার রেড জোন। এখানে দিনকে দিন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেইসাথে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তাই এখানকার মানুষকে গত প্রায় দুইমাস যাবত জোর করে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের অভাবী মানুষগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here