হাবিবুর রহমান বাদল: নারায়ণগঞ্জের সংবাদকর্মীরা গত দুই দিনে নেতাদের কর্মকান্ডে অনেকটা আশ্বস্ত হওয়ার কথা। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। কারণ এক সময় সাধারণ মানুষ কোথাও সমস্যার সমাধান না পেয়ে প্রেসক্লাবের দ্বারস্থ হতো। এমনও দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ মামলা নেয়নি কিংবা মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে তখন তারা শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবকে বেছে নিয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে একসময় স্থানীয় কোন দৈনিক পত্রিকা ছিল না। ১৯৯৬ সালে প্রথম একটি দৈনিক পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে।

সদ্যজাত সেই পত্রিকাটিকে নিয়মিত প্রকাশ করতে গিয়ে কখনো গাড়ি রাখার গ্যারেজ, কখনো কারো ডয়িং রুম ব্যবহার করে উঠতি কিছু আনকোড়া কর্মী নিয়ে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশ হতে থাকে। সেই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্ম জানে কিনা আমার জানানেই। গত সপ্তাহে সুধিজন পাঠাগারে উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস নামক বইটি পুন:মুদ্রনে খবর পেয়ে অনেক আশা নিয়ে বইটি সংগ্রহ করি। ধারণ ছিল সুধিজন পাঠাগারে বাস্তব অর্থে কিছু নিস্বার্থ সমাজ সেবী তথা পাঠক সৃষ্টির কারিগর যেহেতু রয়েছে সেহেতু নিশ্চিয় বইটিতে অতীত এবং বর্তমানের প্রর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া গেলেও কিছু তথ্য অন্তত পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বইটি উপহার দেওয়ার পর বিরাট আশা নিয়ে বইটি পড়তে গিয়ে প্রথমেই হুচুট খেলাম। ৩৯০ পৃষ্টার নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসটি ১৯৮৫ সালের প্রথম প্রকাশের পর এনিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তখন উদ্যোগক্তারা বলেছিল অচিরেই তারা নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বইটি যুগপযোগী হিসেবে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তারা সে কথা রাখেনি। বরং ৩২বছর পর গত মে মাসে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস নামক বইটি পুন:মুদ্রন প্রকাশ করা হয়েছে তাতে একটি শব্দেরও পরিবর্তনও ঘটেনি। বরং পুনমুদ্রনে সম্পাদনা পরিষদের যাদের নাম ছাপা হয়েছে সেই সম্পাদনা পরিষদের ছয় জনের মধ্যে তিনজনই এখন না ফেরার দেশে।

অথচ বিশাল অর্থ ব্যয়ে পুনমুদ্রর্ণ করা নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বইটি নতুন প্রজন্মের কাছে একটি আকর্ষনীয় শুধু নয় বরং এথেকে অনেক কিছু তারা শিখতে পাড়তো। আমাদের মত সংবাদ কর্মীরা পেতাম নৃত্যনতুন তথ্য। সেক্ষেত্রে সুধিজন পাঠাগারে বর্তমান কর্তৃপক্ষ শুধু আমাকেই নয় বলা চলে সমগ্র নারায়ণগঞ্জবাসীকে হতাশ করেছে। হয়তো নতুন তথ্য সম্বলিত নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস প্রকাশ করতে সুধিজন পাঠাগারের শ্রম এবং মেধা ব্যয় হতো এবং সেই শ্রম ও মেধা ব্যয় করার মত পরিচালনা পরিষদ সুধিজন পাঠাগারে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বইটি নতুন প্রজন্মের কাছে অতীত বর্তমান তুলে ধরার জন্য সুধিজন পাঠাগার পরিচালনা পরিষদ উদ্যোগী হবেন এই অনুরোধ আমার রইল। পাশাপাশি একজন সবাদকর্মী হিসেবে গত দুইদিনের দুটি সংবাদ আমাকে উৎসাহীত করেছে। তা হলো গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সভা ও নতুন কমিটি নির্বাচন।

এবং গতকাল ফেসবুকে দেখা নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন অপর অংশের নেতারা ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের অসুস্থ সভাপতিকে দেখতে গিয়েছিলেন। অন্য সংবাদ কর্মীদের কাছে এ ঘটনা দুটি তৎপর্য না থাকলেও আমার কাছে তাৎপর্য মনে হয়েছে এই কারণে যে নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকতার নামে বিভিন্ন জায়গায় যে অপসাংবাদিকতার গালি অহরহ শুনতে হয়, সাংবাদিক ইউনিয়নের এই প্রতিযোগীতার কারণে অন্তত পেশাদার সাংবাদিকরা কিছুটা হলেও সমাজে মাথা উচু করে দাড়াঁতে পারবে-বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে আমি সাংবাদিক। কারণ সাংবাদিক ইউনিয়ন কুক্ষিগত থাকুক এটা আমার কাছে বরাবরই না পছন্দ।

সাংবাদিক ইউনিযনের পেশাদার সাংবাদিকরা সদস্য হবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ সত্য মিথ্যা জানিনা অতীতে শুনে এসেছি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দু:স্থ সাংবাদিকদের টাকা দু:স্থ সাংবাদিকরা পেতো না। এমনকি সাংবাদিকরা কোন বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা বরং অনরেকর্ডে বলতো অমুক সাংবাদিক তো আমাদের সহযোগীতা চায়নি। নড়েচড়ে বসা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশে কমিটি সোমবার গঠনের পর অন্তত একজন অসুস্থ সংবাদকর্মী দেখতে গিয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখার কারণে হয়তো এই সহমর্মিতা বলে কেউ কেউ মনে করতে পারে কিন্তু আমি একে ইতি বাচক দৃষ্টিতে দেখছি। কারণ নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকের সংখ্যা কত তার সঠিক হিসেব আমার জানা না থাকলেও অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক প্রতিমাসে নারায়ণগঞ্জের অন্যায় অবিচার আর দূর্নীতি যদি তুলে ধরে তাহলে দেখা যাবে প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ অনেকেই সজাগ হয়ে যাবে। পাশাপাশি আমার দ্বিতীয় আশ্রয়স্থল হিসেবে যাকে দাবী করি সেই প্রেসক্লাব নারায়ণগঞ্জবাসীর মনের কথা তুলে ধরুক। প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করুক এটাই আমি কায়মন বাক্যে কামনা করি।

কারো স্বার্থ রক্ষা নয় কিংবা দলবাজী নয়, একজন পেশাদার সাংবাদিক নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্য হলে তাকে সদস্য পদ দিতে হবে এটাই গঠনতন্ত্রের নিয়ম। আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ন্ত্রন করবে নারায়ণগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরা। যিনি সংবাদ পত্রে অথবা মিডিয়ার অন্য শাখায় নারায়ণগঞ্জে কর্মরত থাকবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে। এখানে কোন গডফাদারের ইচ্ছা অনিচ্ছায় প্রেসক্লাব চলবে এটা আমি অতীতে প্রেসক্লাবের একাধিক দায়িত্বে থেকেও চাইনি। পাশাপাশি সকল মতভেদ ভুলে আসুন আমরা প্রকৃত সংবাদকর্মীরা এক প্লাটফর্মে দাড়াঁই। প্রতিজ্ঞা করি আমি পেশাদার সংবাদকর্মী হলে এই ক্লাবের সদস্য পদ হওয়ার অধিকার আমার রয়েছে। অসাংবাদিকদের সদস্য পদ থাকার কোন অধিকার নেই। পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য হওয়া তার অধিকার। কারো দয়া কিংবা তোষামধি করে সদস্য পদ চাই না। অতীতে আমি একাধিকবার চেষ্টা করেও গডফাদারদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের এক করতে ব্যর্থ হয়েছি। আসুন আমাদের স্বার্থে আমরা অতীতের সকল মতভেদ ভুলে পেশাদার সাংবাদিকরা এক হই। ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

লেখক-সম্পাদক, দৈনিক ডান্ডিবার্তা ও সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here