নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ও শিল্পপতি শাহ আলমের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে দীর্ঘ বছর যাবত ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি বিভক্ত ছিল। নেতাদের কারনে কর্মীরাও হয়ে পড়েছিলেন বিভক্ত।
কিন্তু একটি উছিলায় এই দুইজনের মাঝে দলীয় স্বার্থে ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান একটি বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করার প্রয়াস চালালেও তা ভেস্তে দিলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ‘দালাল’ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় এমনই ঘটনা ঘটে।


জানাগেছে, সোনারগাঁ থানার একটি নাশকতার মামলায় এদিন আদালতে হাজিরা দিতে যান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহ্ আলম। আত্মসমর্পণ করতে যান নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ।

আর বিএনপির শীর্ষ এই দুই নেতার আইনজীবী ছিলেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। শুধুমাত্র শাহ্ আলমের পক্ষে মামলা পরিচালনায় ছিলেন, এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস।

আদালতের কার্যক্রম শেষে শাহ্ আলম নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনের নীচ তলায় এসে বসেন। এরপর বাইরে অপেক্ষমান গিয়াস উদ্দিনকে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান চা পানের আমন্ত্রণ জানিয়ে বার ভবনের ভিতরে শাহ্ আলমের কাছে নিয়ে দু’জনের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়াস চালানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু ঐ মহুর্তেই দৈত্যর মত দৌঁড়ে এসে বার ভবনে হাজির হন ‘দালাল’ আজাদ বিশ্বাস। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তিনি এড. সাখাওয়াত হোসেনকে রীতিমত ‘ধমক’ দেন। বলেন, ‘আপনি কি শুরু করেছেন? ’


তখন সাখাওয়াতের সাথে অযথাই দুর্ব্যবহার করার কারনে আদালতে উপস্থিত গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা ‘দালাল’ আজাদ বিশ্বাসের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষই যখন উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিল তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবী এড. জাকির হোসেন, এড. আব্দুল হামিদ খান ভাষাণী, এড. খোরশেদ আলমসহ অন্যান্য আইনজীবীরা শাহ্ আলমকে সেখান থেকে নিয়ে ভেতরের কক্ষে বসান।

এরপর পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে গিয়াস উদ্দিন কাউকে কোন কিছু না বলেই আদালত পাড়া ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে শাহ্ আলম সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও এড. আজাদ বিশ্বাসকে বাহিরে ডেকে এনে বুকে বুক মিলিয়ে তাৎক্ষনিক পরিবেশ শান্ত করেন।

তবে সেই সময় পাশে আইনজীবীদের চেয়ারে বসে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম দলীয় নেতাদের মধ্যকার বাকবিতন্ডার দৃশ্য দেখলেও উঠে গিয়ে কাউকে থামানোর চেষ্টা করেননি। উপরন্তু ঢায় চেয়ারে বসেই যেন সবকিছু দেখেও না দেখার অভিনয় করেন তিনি।


এই ঘটনায় আদালতপাড়ায় বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এব্যাপারে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, শাহ্ আলম আর গিয়াস উদ্দিন সাহেবের সাথে দলের স্বার্থে ঐক্যের প্রচেষ্টা করেছি। তারা উভয়েই এজলাসে থাকাকালীন সময় দলের বিষয়ে নানা আলোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ‘দালাল’ হিসেবেই এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। যেই কারনে একাধিক স্থানে তিনি খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে লাঞ্ছনার শিকার হন। সর্বশেষ ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত একটি সমাবেশে আজাদ বিশ্বাস নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানকে নিজের নেতা বলে ঘোষণা দিয়ে আরো বিতর্কিত হয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here