নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: গত ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি রাজনৈতিক মামলায় হাজিরা ছিলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের। এ মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন কামাল। তাই এ মামলায় জামিন নেয়া তার জন্য দুরূহ ছিলো, ছিলো প্রায় অসম্ভব কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে এই দুরূহ কাজটিই সম্পন্ন করেন, জামিন পান এটিএম কামাল। এমনকি মামলায় আদালতের যে খরচ তাও নিজের পকেট থেকে দেন এড. সাখাওয়াত।

অথচ অকৃতজ্ঞ এটিএম কামাল সে কথা মনে রাখবেতো দুরে থাক, সেদিনই মহানগর বিএনপির সভাপতির সাথে মিটিং করে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে মহানগর বিএনপি থেকে বহিস্কারের জন্য বিএনপির ভাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর আবেদন করেন এটিএম কামাল এবং সেই আবেদনে সভাপতি সেক্রেটারী দুজনই স্বাক্ষর করেন। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে একজন সাধারণ মানুষের মানবিকতাটুকওু দেখাতে ব্যর্থ এটিএম কামাল। কামালের এই অকৃতজ্ঞ আচরনে তাই ক্ষুব্দ তৃণমূল।

জানা যায়, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর আর ক্ষমতার স্বাদ পায়নি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধাণ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় মামলা হামলায় নাজেহাল দলটির নেতাকর্মীরা। গত ৩০ জানুয়ারী অনষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা ঠিকমতো বাড়িঘরে থাকতে পারেননি, পালিয়ে যাযাবর জীবন যাপণ করতে হয়েছে। আর এখন আগের মতো ধরপাকড় না হলেও পুরানো মামলাগুলোতে নিয়মিতই হাজিরা দিতে হচ্ছে তাদের। আর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রধাণ আশ্রয়ের কেন্দ্র হলেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মামলাগুলোতে বিনা পয়সায় আইনী সহায়তা প্রদান করে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। অথচ তার কাছ থেকে আইনী সহায়তা নিয়ে আদালতপাড়ায় দাড়িয়েই মিডিয়ায় সাখাওয়াত বিরোধী বক্তব্য দেন অনেক নেতা।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে এর আগেও তিন দফায় নিজ খরচে হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়েছেন এড. সাখাওয়াত। এটিএম কামাল বিভিন্ন সময়ে স্বীকারও করেছেন এড. সাখাওয়াতের এই অবদানের কথা, লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। সেই এটিএম কামালও স্বাক্ষর করেছেন সাখাওয়াত হোসেন খানকে বহিস্কারের সুপারিশে। কতটা অকৃতজ্ঞ হলে একটা মানুষ এমনটা করতে পারে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, এর বাইরে তার আর কোন পরিচয় নেই। তিনি কোন ব্যবসা করেন না, না করেন কোথাও চাকুরী। সহায় সম্পদ বলতে শহরের মিশনপাড়ায় ছোট্র একটা ফ্লাট। সেখানেই তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন, পাননা কোন বাড়ি ভাড়ার টাকা। তবে কোন পেশায় না থেকেও বিলাসী জীবন যাপণ করেন এই রাজনীতিবীদ। বছরের বেশীরভাগ সময়েই থাকেন স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। কোন আয় রোজগার ছাড়াই এ ধরনের আয়েশী জীবন যাপনের নেপথ্য কারন নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে চাপা গুঞ্জণ। অনেকে মনে করেন রাজনীতিই হলো এটিএম কামালের পেশা, আয়ের একমাত্র উৎস।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রহস্যময় এক চরিত্রের নাম এটিএম কামাল। রাজনীতির পথচলায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারন করেন তিনি। যেমন গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরামের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র মতে আকরামের কাছ থেকে এজন্য বিশাল অংকের একটি টাকাও পান কামাল। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারনার কয়েকদিনের মধ্যেই উধাও হয়ে যান তিনি। গুঞ্জণ রয়েছে সরকারী দলের প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের ‘বখশিস’ পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চাড়েন সুচতুর কামাল আর বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে তার ছেলেকে গ্রেফতারের নাটক সাজান। নির্বাচনের এই টাকা নিয়ে পাড়ি জমান সুদুর আমেরিকায়।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনের নাম করেও অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে এটিএম কামালের বিরুদ্ধে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সংগৃহিত অর্থও সঠিকভাবে খরচ না করার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক নেতা।

তৃণমূলের মতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল একজন ‘পল্টিবাজ’ নেতা। এ সুবিধাবাদী নেতা যখন যে দিকে বাতাস বয়, সে দিকেই পাল তোলেন। কখনো তাকে দেখা গেছে জেলা বিএনপি’র সভাপতি তৈমূর আলমের কাছের লোক হিসেবে, আবার কিছুদিন পরেই ভোল পাল্টে কখনো সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী কিংবা গিয়াসউদ্দিনের লেজুরবৃত্তি করতে। ২০০১ পরবর্তী সময়ে এ মুখোশধারী নেতাও বিএনপি’কে পল্টি দিয়ে যোগ দিয়েছিলো একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারায়। বিএনপি থেকে বিল্পধারায় গিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অশ্লিল ভাষায় বক্ব্যও দিয়েছেন এটিএম কামাল। কিন্তু সেখানে বেশীদিন সুবিধা করতে না পেরে আবারো বিএনপিতে ফিরে আসেন। নিজ স্বার্থের জন্য তিনি দলের মায়া ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না।

সূত্র আরো জানায়, এটিএম কামালের রাজনীতির হাতেখড়ি বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমর আলম খন্দকারের হাত ধরে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা এটিএম কামালের নিজস্ব কোন লোকবল না থাকায় তৈমূরের সান্নিধ্যে থেকে শুরু করেন নিজেকে পরিচিত করার কাজ। তৈমূরের সাথে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে চলে যান নতুন গন্তব্যে। এরপর একে একে সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিন, মো: আলী, কাজী মনির হয়ে বর্তমানে বাসা বেঁধেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের ডেরায়।

এর আগে তৎকালীণ নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বিএনপি ত্যাগ করে যোগ দিয়েছিলেন ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারায়। সে সময় এটিএম কামাল বিএনপির চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে অশ্লিল ভাষায় গালমন্দ করে বক্তব্য বিবৃতি দিতেন প্রতিনিয়তই। এমনকি ‘মায় পুতে মিল্লা দিশটা খাইবো গিল্লা’ শ্লোগানও দিতে কুন্ঠা বোধ করেননি তিনি। কিন্তু বিকল্পধারায় বেশীদিন সুবিধা করতে না পেরে আবারো বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করেন কামাল এবং অদৃশ্য হাতের ইশারায় বাগিয়ে নেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here