নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নিজেকে বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী ভেবে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা এড. আবুল কালাম আকষ্মিক কোনঠাসা হয়ে পরেছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নির্বাচনী ঘোষনায়-এমনটাই জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। এ আসনে তিনবারের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালামের শক্ত প্রতিদ্বন্দি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে তার রাতের ঘুম আর দিনের শান্তি নষ্ট করে দিয়েছেন এই দুই রাজনীতিবীদ। আর তাই তৃণমূলের মতে সাখাওয়াত ও খোরশেদকে ঠেকাতে কেন্দ্রে লবিংসহ বৈধ অবৈধ সকল পন্থায় মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল কালাম।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম আর ছয়বার পেয়েছিলেন দলীয় মনোনয়ন। আবুল কালামের পিতা মরহুম হাজী জালালউদ্দিন ছিলেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীণ নেতা। পিতার উত্তরাধীকার সূত্রে সদর-বন্দর আসনে একচ্ছত্র আধিপত্ত বিস্তার করেছিলেন কালাম। তাছাড়া এতোদিন এই আসনে বিএনপি’র বিকল্প কোন প্রার্থী তৈরী না হওয়ায় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম না করেও নির্বাচনের সময় ঠিকই মনোনয়ন বাগিয়ে নিতেন এই সুযোগসন্ধানী নেতা। কিন্তু আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উল্টে গেছে কালামের সব হিসেব নিকেশ। বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জসিটি কর্পোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশার ঘোষনা কালামের জন্য বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূলের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নিজের ক্রয় করা সম্পত্তি মনে করে নিজেকে অপ্রদ্বন্দি ভাবতেন আবুল কালাম। আর তাই রাজনীতির মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে থাকতেন অনুপস্থিত। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যখন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে হামলা মামলায় দিশেহারা, তখন আবুল কালাম তার বিলাসবহুল ঘরে বসে নির্বাচনের হিসাব কষায় ব্যস্ত থাকেন। সারা বছর মাঠে না থাকলে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ঠিকই ইদুরের গর্ত থেকে বেড়িয়ে আসেন এই কৌশলী নেতা। শুরু করেন হাই কমান্ডে তদ্বীরসহ নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা। দীর্ঘদিন একই নিয়মে চলে এলেও এবার ঘটতে যাচ্ছে তার ব্যতিক্রম। বিএনপি’র মনোয়ন প্রাপ্তিতে এবার কঠিন প্রতিদ্বন্দিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন কালাম, যা তার কাছে একবারেই অনাকাঙ্খিত।

তৃণমূল আরো মনে করে, নাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করা এড. আবুল কালামের জন্য কাল হয়ে দেখা দেয়। কারন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের অপারগতায় মাঝারী সারির নেতা এড. সাখাওয়াত হোসেন খান খান দ্রুতই চলে আসেন লাইম লাইটে। কেন্দ্রেও সাখাওয়াতের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় অনেকগুণ। আর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সাথে বেঈমানি করায় এড. আবুল কালাম কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হয়ে যান অপরাধী। দিন যত গড়াতে থাকে, কালামের জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা-দুটিই কমতে থাকে। অন্যদিকে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করার পুরস্কার হিসেবে তৃণমূল থেকে বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সাখাওয়াতের প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সর্বত্র। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হন সাখাওয়াত। আর তাই মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পথের কাঁটা সাখাওয়াতকে সড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন এড. আবুল কালাম।

এদিকে আবুল কালাম যখন এক সাখাওয়াতকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো নারায়ণগঞ্জসিটি কর্পোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশার ঘোষনা দেন। খোরশেদের এই ঘোষনায় আবুল কালামের সকল রাজনৈতিক পরিমন্ডল পাল্টে দেয়। কারন খোরশেদ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত সংগ্রামী নেতা। তাছাড়া খোরশেদ তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। বিপুল ভোটের ব্যবধানে সরকারী দলের হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে আনা খোরশেদের রয়েছে বিশাল জনসমর্থন। এর সাথে কেন্দ্রেও খোরশেদের গ্রহনযোগ্যতা আবুল কালামের চেয়ে কোন অংশে কম না। আর তাই সাখাওয়াতের পাশাপাশি খোরশেদ ঠেকাতে গিয়ে কোনঠাসা এখন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হওয়ার রঙিণ স্বপ্নে বিভোর এড. আবুল কালাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here