নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব সহ পাঁচ জনের রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকালে সদর মডেল থানায় গ্রেফতারকৃত মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এড. এইচ এম আনোয়ার প্রধান, জেলা আইনজীবী ফোরামের সহ সাংগঠনিক এড. মাইনুদ্দিন রেজা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও নাসিক কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান কে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) এর বিচারক মাহমুদুল মোহসিন’র আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে আসামীদের প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক এড. মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, এড. জাকির হোসেন, এড. আব্দুল বারী ভূঁইয়া, এড. বোরহানউদ্দিন সরকার, এড. নবী হোসেন, এড. সরকার হুমায়ূন কবির, এড. খোরশেদ আলম মোল্লা, এড. রকিবুল হাসান শিমুল, এড. রেজাউল ইসলাম রেজা, এড. আজিজ আল মামুন, এড. মশিউর রহমান শাহীন, এড. আবুল কালাম আজাদ জাকির, এড. ওমর ফারুক নয়ন, এড. শরীফুল ইসলাম শিপলু, এড. আঞ্জুম আহমেদ রিফাত, এড. ফজলুর রহমান ফাহিম সহ শতাধিক আইনজীবীরা ।

এরআগে গত ৫ ফেব্রুয়ারী তাদের গ্রেফতারের পর নারায়ণগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে আসামীদের হাজির করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৮ ফেব্রুয়ারী পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করেছিলো। কিন্তু এই দিন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ১২ জানুয়ারী শুনানীর দিন ধার্য করে আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারী রাতে সদর মডেল থানায়, নাশকতার অভিযোগে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১২ জন সহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

অত্র মামলায় গ্রেফতারকৃত ৫ আসামীরা হলেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন (৫২), জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান (৪৫), এড. মাইনুদ্দিন (৩৫), শহরের ২৯/২ মিশনপাড়া এলাকার ফারুক আহমেদের ছেলে ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব (৩৮) ও নাসিক ৯নং ওয়ার্ড কান্সিলর মোঃ ইস্রাফিল প্রধান (৪২)।

সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মামলা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে রেলপথ, রাজপথ, নৌপথ অচল সহ মিল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারী রাতে মিশনপাড়া এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পরিদর্শক (অপারেশন) এস এম জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাকী পলাতক আসামীরা হলেন, মো: শাহ আলম, মনিরুল আলম সেন্টু, কাউন্সিলর খোরশেদ আলম খন্দকার, এটিএম কামাল, মো: সবুজ, রানা মুজিব, রাসেদুর রহমান রশু, মোশারফ হোসেন রুবেল, মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি, সুরুজ জামান সুরুজ, হাসান আহমেদ, নুরুল হক চৌধুরী, দিপু চৌধুরী, দর্পন প্রধান, আকরাম প্রধান, মশিউর রহমান রনি, রিয়াদ হোসেন, মাহবুব হোসেন জুলহাস, শাহেদ আহমেদ ওরফে বোমারু শাহেদ, রিপন ওরফে ফতে মো: রেজা রিপন, মনিরুল ইসলাম সজল, আরাফাত, মহিউদ্দিন, মো: ফারুক আহমেদ, মো: রিপন ওরফে পিচ্চি রিপন, এড. আব্দুল হামিদ খাঁন ভাষানী, জাহাঙ্গীর কমিশনার, মনির হোসেন, মো: লিখন ওরফে লিখন সরকার, রিটন দে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here