নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দীর্ঘ প্রতিক্ষা আর বহু দেনদরবারের পর প্রয়াত ছোট পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের মান রাখতেই কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি এবং এড. আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

কমিটি ঘোষণার পর এমনটাই চাউর হয়ে উঠেছিল। আর যার নেপথ্যে নাকি ছিলেন জিয়া পরিবারের সদস্য পরিচয়দানকারী আড়াইহাজার উপজেলার এক বিএনপি নেতা।

কিন্তু দূর্ভাগ্য খালেদা জিয়ার! রাজধানীর পাশ^বর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব বিবেচনা করে যেই আশা নিয়ে তিনি জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন, সেই হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্তির সাত মাসের মধ্যে জেলা কিংবা মহানগর কমিটির এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকাই প্রস্তুত করতে পারেননি সংগঠন দু’টির সভাপতি/সাধারন সম্পাদকেরা। এমনকি সাত মাসের মধ্যে দলীয় কোন কর্মসূচীতেও আংশিক কমিটিতে থাকা মাত্র ২৬ জন সদস্যকেও কেউ এক সাথে দাঁড় করাতে পারেনি। উল্টো বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে সমালোচিত হয়েছে নিজেরা।

যদিও মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের দাবী কয়েক মাস পূর্বেই মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন তারা। যা কিনা বিএনপি চেয়ারপার্সন লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু পরিধি বড় হওয়ায় এখনো জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গের লক্ষ্যে কাজ শুরু করতে পারেনি বলে জানান, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

তারমতে, জেলার আয়তন বড়, তাই ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের যোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে জেলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতে বেশী সময় লাগছে। অযোগ্যদের তো আর জেলা কমিটিতে পদ দেয়া যাবে না।

অথচ, দায়িত্ব প্রাপ্তির পর প্রথম বৃহৎ কর্মসূচী “কর্মী সম্মেলন” পালন করতে গিয়েই হোঁচট খায় জেলা বিএনপি। অনুষ্ঠান স্থলে যাওয়ার পথে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জমান ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সামনেই জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ্ আলমের ভাগ্নে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান রনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেময় জেলা বিএনপির আরেক সহ-সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস ঝগড়া মিটাতে এসে উল্টো দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে দালাল আখ্যায়িত হয়ে চরম ভাবে হেনস্থার শিকার হন।

সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি আয়োজিত একটি সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনেই জেলা বিএনপির কমিটিতে অযোগ্য ঘোষণা করে নতুন করে কমিটি গঠনের তাগিদ দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ।

সর্বশেষ দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমেও আশান্বিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। তারা এই কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার এবং সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ নিজ উদ্যোগে সর্বপ্রথম শুরু করে ফেলেন। কিন্তু এরপরেও আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম না করে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান রূপগঞ্জের তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বসে আর সাধারন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সিদ্ধিরগঞ্জ দলীয় কার্যালয়ে বসে বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়নের নেতাদের ডেকে এনে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের দায়িত্ব পালন করেন।

আর সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নীচে এসে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করলেও অদ্যবধি আংশিক কমিটির সকল নেতৃবৃন্দদের নিয়ে একসাথে বসতে পারেন নাই।

যার ফলে জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ব্যতীতও তৃণমূলের কাছে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা রীতিমিত অযোগ্য হিসেবেই পরিচিতি লাভ করছে। আর তাই জেলা কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করে তা বাতিল পূর্বক পুনর্গঠনেরও দাবী জানিয়েছেন অনেকে।

অপরদিকে, দায়িত্ব প্রাপ্তির পরেই খুব বিচক্ষনতার সাথে কর্মী সম্মেলন সম্পন্নসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে মহানগর বিএনপি প্রথম পর্যায়ে বেশ বাহ্বা কুঁড়ালেও পরক্ষনেই নানা কারনে তারাও বিতর্কিত হয়ে পড়ে।

যার প্রথম সূত্রপাত ঘটে গত জুলাই মাসে শহরের মিশনাপাড়াস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর বিএনপি আয়োজিত দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। যেখানে আমন্ত্রিত কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালামের পুত্র মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা। একপর্যায়ে লাঠিসোঠা নিয়েই রাজীবের সমর্থকদের উপড় হামলা চালায় আশার কর্মী বাহিনী। পরবর্তীতে রাজীবের সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আশাকে পাশ^বর্তী একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে।

শুধু তাই নয়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে যখন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান মাঠ ঘুছাতে নেমেছিল, ঠিক তখনই সিটি নির্বাচনে তার সাথে থাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ওসমান পরিবারের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা উপঢৌকন নেয়ার বেফাঁস মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে মহানগর বিএনপিকে বিতর্কিত করে তোলে। স্থানীয় গণমাধ্যমে মহানগর বিএনপি সমালোচনার ইস্যু হয়ে যায়।

পরবর্তীতে জরুরী সভা করে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে আবু আল ইউসুফ খান টিপু ওরফে পাকনা টিপুর মিল করিয়ে দিলেও টিপু আর তার পাকনামি পোস্ট দেয়া বন্ধ রাখে নাই। মূলত আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে এড. আবুল কালাম প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে এগুতে থাকলেও তাতে বাঁধা হিসেবে প্রথমে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, পরবর্তীতে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় বেসামাল এড. আবুল কালাম তাদের জব্দ করতে লেলিয়ে দেন এটিএম কামাল আর পাকনা টিপুকে। শুরু হয়ে যায় মহানগর বিএনপিতে দোষারোপের রাজনীতি।

এরপর মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল ঘরে বসে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালালেও রাজপথে গিয়ে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় সদস্য অভিযান উদ্বোধন করায় এনিয়ে কালাম কামালের মাঝে গাত্রজ¦ালা শুরু হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে একপর্যায়ে বন্দরে একটি অনুষ্ঠানে যাত্রাপথে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের গাড়ী বহরে বাঁধার সৃষ্টি করে আবুল কালামের অনুসারীরা। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে কোনক্রমেই এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে দমাতে না পেরে মহানগর বিএনপিতে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ১৫ দিনের মধ্যে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। এরপর কোন উপয়ান্তর না পেয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়ে তৃণমূলের কাছে বিতর্কিত বনে যান এড. আবুল কালাম ও এটিএম কামাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here