নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে ধর্ম ভিত্তিক ইসলামী দলগুলো ধর্মীয় অনুশাসন ও সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের নানা প্রকার সমস্যা সমাধানে কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ না করলেও নিজেদের মধ্যেকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য শহরকে কারবালায় পরিনত করার ঘোষনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। পৃথিবীতে শান্তির ধর্ম ইসলামকে পুঁজি করে এ সকল ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে একদিকে ইসলামকে কলঙ্কিত করছে, অপরদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শান্ত নারায়ণগঞ্জকে আবারো অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে!
ধর্ম ভীরু নারায়ণগঞ্জবাসীর আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তারা চরম নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে বলে অবিলম্বে তাদের প্রতিহতের আহবান শান্তিপ্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসীর।

সূত্রে প্রকাশ, প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জে ঘটছে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ নানা রকম মনুষ্য সৃষ্ট দুর্বিপাক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ইসলাম ভিত্তিক দলগুলোকে কখনো এ বিষয়ে প্রতিবাদের জন্য রাজপথে দেখা যায় না। অথচ গত কয়েকদিন যাবত নারায়ণগঞ্জের তৌহিদী জনতা ও নারায়ণগঞ্জের সুন্নি জনতার ব্যানারে দফায় দফায় মিটিং মিছিল করে একে অপরের লাশ ফেলে দেয়ার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জকে কারবালায় পরিনত করার হুশিয়ারীও দেয়া হচ্ছে। আর এতে করে শান্তিপ্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে ভয় ও শংকার জন্ম নিচ্ছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি মসজিদের খতিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল নাকি বন্দরের একটি সভায় মুসলমানদের ঈদে মিলাদুন্নবি ও হিন্দুদের জন্মাষ্টমীকে একই অনুষ্ঠান হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। আর মাওলানা আবদুল আউয়ালের সে বক্তব্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করে আব্দুল আউয়ালকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের মদদ দাতা উল্লেখ করে তার গ্রেফতার দাবী করা হয়। তামিম বিল্লাহ’র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সেই মানববন্ধন শেষে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে নানা প্রকার কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পরদিন ৫ এপ্রিল একই স্থানে নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে তামিম বিল্লাহসহ বাহাদার শাহ ও এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীদের গ্রেফতার করার দাবী জানানো হয়। সেই বিক্ষোভ সমাবেশে মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জকে কারবালায় পরিনত করা হবে, হাজার হাজার লাশ পরবে। ধর্মীয় নেতাদের মুখে এ ধরনের হুমকির কথা শুনে শংকিত হয়ে পরে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপ্রিয় জনগন।

৫ এপ্রিলের পর ৬ এপ্রিল শুক্রবার বাদ জুমা ডিআইটি মসজিদের সামনে থেকে দুই পক্ষই পাল্পাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের শংকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় বৃহস্পতিবার রাত কাটে নারায়ণগঞ্জের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। যদিও প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর দুই পক্ষ আলাদা অবস্থানে কর্মসূচি পালন করায় সে যাত্রায় সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু তাদের এ ধরনের কর্মকান্ড চলতে থাকলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার সম্মুখীণ হলেও অবাক করার কিছু থাকবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here