নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীণ মাসদাইরের গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যা মামলার আসামীদের এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) আসামীদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে বারবার রিমান্ডে নেয়া হলেও আসামীদের কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না নেয়ায় সিআইডি’র নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত শুভ্র’র পরিবারের সদস্যরা। শুভ্র’র পরিবারের দাবী, সিআইডি আসামীদের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে মামলার সঠিক তদন্ত করছে না।

মঙ্গলাবার আদালতে উপস্থিত নিহত সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র’র বাবা শাহাদাত হোসেন শিকদার নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, শুভ্র হত্যাকান্ডের দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এই মামলার তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। মামলা ফতুল্লা থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর হলেও তদন্তে কোন প্রকার আশার আলো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। মামলার চার আসামী গ্রেফতার হলেও বাকী আসামীরা এখনও অধরা রয়ে গেছে। তাছাড়া গ্রেফতারকৃত আসামীদের বারবার রিমান্ডে নেয়া হলেও কোন তথ্য বের করতে পারছে না সিআইডি। তাই আমরা ধারনা করছি আসামী পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় সিআইডি তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গেছে এবং মামলার সঠিক তদন্ত করছে না। গতকাল আসামীদের রিমান্ডের সময় প্রধাণ আসামী নাজমূলের বাবা আমীর হোসেন ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছি। আসামী পক্ষের সাথে সিআইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে না। সিআইডি’র গড়িমসির সুযোগে আসামী পক্ষের লোকজন আমার পরিবারকে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে এবং এ কারনে আমার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তবুও মামলা নিতে দেরী করেছে। পোর্ষ্ট মর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে শুভ্রকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী সিআইডি কর্মকর্তা বাবুল ভূইয়া নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, আশা করছি খুব শিঘ্রই আমরা তদন্ত কাজ শেষ করতে পারবো।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) রাতে মাসদাইর নিবাসী শাহাদাত হোসেন শিকদারের বড় ছেলে গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র’র লাশ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। সন্দেহভাজন হিসেবে মাসদাইরের নাজমুল, জীবন ও মনাকে গ্রেফতার করে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর দেওয়া পোষ্ট মর্টেম রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়ার পর নিহতের পিতা শাহাদাত হোসেন শিকদার বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুই তিনজনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর মামলার আরেক আসামী সমীরকে গ্রেফতার করা হয় এবং মামলার তদন্তভার সিআইডিকে হস্তান্তর করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here