নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে অবৈধ মশার কয়েল ফ্যক্টরীতে ফের অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার রাত ৩ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি ধনুহাজী রোড এলাকায় জনৈক কামাল ও মাকসুদের মালিকানাধীন মারিয়া প্রডাক্ট নামের একটি মশার কয়েল কারখানায় এ আগুন লাগে। এতে ফ্যক্টরীটির ৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায় বলে জানিয়েছে মালিকপক্ষ। অবৈধ গ্যাস সংযোগের ওভারহিটের কারণে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় এলাকাবাসী। অগ্নিকান্ডের খবর প্রকাশ হয়ে পড়লে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় কারখানার কর্মচারী ও মালিকের স্বজনরা ডিএনডি ক্যানেল থেকে মটরের সাহায্যে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর একই এলাকার জনৈক বজলুর রহমানের মালিকানাধীন হক এন্ড সন্স নামের একটি মশার কয়েল কারখানায় এ আগুন লাগে। এতে ফ্যক্টরীটির ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায় বলে জানিয়েছে মালিকপক্ষ। আদমজী ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সোয়া ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভায়। অবৈধ গ্যাস সংযোগের ওভারহিটের কারণে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ধনুহাজী রোডের পশ্চিমে জনৈক কামাল ও মাকসুদ মারিয়া প্রডাক্ট নামে মশার কয়েল কারখানাটি তৈরী করে। কারখানাটির একটি অংশে খানার ডুলি (রান্নার পাতিল রাখার বক্স) তৈরী করা হয়। অন্যঅংশে তৈরী করা হয় মশার কয়েল। ইতিপূর্বেও এ কারখানায় আগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছিল। তখন কারখানাটির গ্যাস সংযোগের বৈধ কাগজসহ কোন বৈধ কাগজপত্র ফায়ার সার্ভিস কর্মী বা সাংবাদিকদের দেখাতে পারেনি এর মালিক কামাল হোসেন ও মাকসুদ।

দীর্ঘদিন যাবত এ মশার কয়েল কারখানা ও খানা ডুলি কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানার মালিকরা কারখানটি চালিয়ে আসছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এতে অগ্নিনির্বাপকের কোন ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। শনিবার ভোর ৪ টায় মশার কয়েল কারখানার গ্যাসের চুলা থেকে হঠাৎ করে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। অগ্নিকান্ডের পর পরই কারখানার মালিক কামাল ও তার পার্টনার ধনুহাজী বাড়ির মাকসুদ তাদের স্বজনরা এবং কারখানার কর্মচারীরা মটরের সাহায্যে ডিএনডি থেকে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে কামাল হোসেন তার কর্মচারী ও এলাকাবাসীকে জানায়, এতে প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। সোয়া ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কারখানার মালিক কামাল হোসেন ও মাকসুদের নিকট সাংবাদিকরা কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তর ও গ্যাস সংযোগের কাগজ দেখতে চাইলে কারখানার মালিক তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সার্বিক) আব্দুস সাত্তার জানায়, আবাসিক এলাকায় মশার কয়েল কারখানায় আগুন লাগায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর আমরা বিলম্বে পেয়েছি। অফিসার পাঠিয়েছি খবর নেয়ার জন্য। এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ধনুহাজী রোডের পাশেসহ এ এলাকায় জনৈক কামাল হোসেন, মাকসুদ, মোজাম্মেল, হুমায়ুন, ইব্রাহীম, বজলুর রহমান মশার কয়েল কারখানা ও খানার ডুলি কারখানা তৈরী হয়।

এ কারখানাগুলোত অবৈধ কোন গ্যাস সংযোগ নেই। ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত ও তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেও সপ্তাহ না ঘুরতে কারখানাগুলোতে আবার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানাগুলো চালু হয়। পুলিশ ও তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ কারখানাগুলো দীর্ঘদিন যাবত চালু রয়েছে বলে মালিকরা প্রায় সময় গর্ব করে প্রচার করে থাকে বলে এলাকাবাসী জানায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here