নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাস ডেঙ্গু ও চিকুণগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী থাকলেও অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি এসে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়।
আর এ নিয়ে কর্মশালায় আগত অতিথিদের অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতেই গানের সুরে বলেন, ‘আরো আগে কেন এলে না! গ্রীষ্মকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুণিয়া রোগের প্রকোপ বেশী হলেও গ্রীষ্ম, বর্ষা গিয়ে শরৎও চলে যাচ্ছে, আর এখন এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন আমাকে অবাক করেছে। আরো অনেক আগেই এটা করা উচিত ছিলো’। অনুষ্ঠানের বাকী বক্তাদের অনেককেই তাদের বক্তব্যে আয়োজকদের এই বিলম্বিত আয়োজনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে জেলা সার্কিট হাউসে ‘লাইফস্টাইল এবং হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন’ কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুণিয়া সংক্রমণ ও আমাদের করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় তাদের এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে।

সূত্র মতে জানা যায়, বেশ কয়েকবছর যাবত বাংলাদেশে এডিশ মশার আক্রমনে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার দেখা যায়। আর এ রোগের প্রাদূর্ভাব বেশী দেখা যায় গ্রীষম্মকাল তথা এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত। এ বছর ডেঙ্গুর সাথে যোগ হয়েছে চিকুণগুণিয়া নামক আরেকটি রোগ। এটিও এডিস মশার কামড় থেকে হয় আর এর প্রকোপও ঘটে ঐ একই সময়ে। তাই এ দুটি রোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে এপ্রিল মাস আসার আগ থেকেই সারাদেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হতে থাকে।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় ডেঙ্গু ও চিকুণগুণিয়া প্রতিরোধের পুরো দায়ভার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উপর চাপিয়ে দিয়ে দিব্যি দিন কাটিয়ে যাচ্ছিলো। যখন এ দুটি রোগ সংক্রমণের সময় প্রায় পার হয়ে গিয়েছে, তখন লোক দেখানোর মতো করে অসময়ে আয়োজন করে এ বিষয়ে গন সচেতনতা সুষ্টিতে কর্মশালা। আর তাই আগত অতিথিদের এ ক্ষোভ প্রকাশ।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও মেডিকেল অফিসার ডা: প্রবীর কুমারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিএসবি) মো: ফারুক হোসেন, এনডিসি জ্যোতি চন্দ্র বিকাশ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী প্রধান খন্দকার বদরুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো: আলমগীর ফকির, মেডিকেল কনসালটেন্ট ডা. সুকান্ত , সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো: আমিনুল হক, নাসিক ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অশিত বরণ বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম প্রমুখ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here