নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র মতো সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জেলা বিএনপি’র অন্তর্ভূক্ত করার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্ত সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল করে দেবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
আর এ ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটাচ্ছেন তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে। গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুকে রীতিমতো ঝড় বয়ে যাচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ষ্টেটাস আর কমেন্টের মাধ্যমে বিষয়টিকে ভাইরাল করে তুলেছে।

সূত্রে প্রকাশ, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি জাতীয় নির্বাচনে ফুতুল্লার সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীণ সিটি কর্পোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র থেকে আলাদা করে জেলা বিএনপি’র সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছিলো আগে। এতে করে পুরো সিটি কর্পোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ড ব্যাপী গড়ে উঠা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র আকারও অনেক কমে যায়। যার ফলে নেতাকর্মীর অভাবে পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যে ব্যানার বের করার সুযোগও পায়না তারা দলীয় কর্মসূচিগুলোতে।

পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান করে কোন রকমে দায় সারেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। পরিবর্তে সিদ্ধিরগঞ্জের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারনে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে শহরের বুকে সভা সমাবেশ করে সাইকে তাক লাগিয়ে দেয়।

আর তাই মহানগর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপিকে আলাদা করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষোভ বিরাজ করছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। আর এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়া হয় সিদ্ধিরগঞ্জের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো জেলায় আওতাভুক্ত করায়।

কারন এসমাত্র মহানগর যুবদল ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বাকী মহানগর শাখাগুলোর এমনিতেই করুন অবস্থা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজলকে মহানগর বিএনপি’র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক করার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ থেকে হারিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদল।

যুগ্ম আহবায়করাও সবাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইস্যুতে গত কয়েক মাসের লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামে তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায়নি মহানগর ছাত্রদলের কাউকে। আর নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলেরতো মহানগর কমিটিই নেই। এমন অবস্থায় সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সিদ্ধিরগঞ্জ অংশকে মহানগর থেকে আলাদা করে দেয়ায় ভাবষ্যত পরিনতি চিন্তা করে আতঙ্কিত হয়ে পরছেন নেতাকর্মীরা। যার প্রকাশ ঘটছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্ত ঘোষনা হবার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তার ফেসবুক পেজে লিখেন ‘কাউন্সিলের দরকার কি? চাটুকার শ্রেনীর ও রোজের কামলা অনেকেই বলেন আমি নাকি ফেসবুকে বেশী লেখি, লিখবো না আর। তবে একটা প্রশ্ন না করে পারছি না। ১ টাকার কাগজ আর ৩ টাকার কলমে যদি যখন তখন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় তবে কোটি টাকার কাউন্সিল করে লাভ কি? মানুষ দিনে দিনে বড় হয়,আর আমরা লালসার আগুনে নিজের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেই। আমরা তো আর কর্মী নেই, এখন আমরা কর্মচারী। আজ যদি ম্যাডামের পাশে তারেক রহমান থাকতে পারতেন তবে আমাদের এই দিন দেখতে হতো না। সুতরাং কর্তার ইচ্ছাই কর্ম, চাটুকারীতাই এখন ধর্ম। যা আছে কপালে- খোরশেদ’।

খোরশেদ আরো লেখেন, ‘শুধু নারায়ণগঞ্জের জন্য অভিনভ আইন? কে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলো? আমি খোরশেদ, না দল? যে যুক্তিতে একাজ করলেন সেই যুক্তিতে তো জেলা বা মহানগর নামে কোথাও কোন কমিটির দরকার নাই। নারায়ণগঞ্জ -৫ বিএনপি, ঢাকা – ৮ বিএনপি, চট্রগ্রাম – ৪ বিএনপি। এভাবে করলে আরো ভাল হয়। আজ মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবকে খুব মনে পরছে’।

খোরশেদের এরূপ ষ্টেটাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব কমেন্ট করেন ‘এমপি প্রার্থীদের দল এটা বুঝতে এতদিন লাগলো কেন সেটাই বোধগম্য নয়!’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহেদ আহমেদ লিখেন, ‘সংগঠনকে ধবংস করে দিয়েছে, আর এই ধবংসের অংশ হয়ে মহানগর ছাত্রদলে আমি পারসোনালী থাকছি না। যে যাই বলুক আর মনে করুক সংগঠনের ক্ষতি হলে, ক্ষতি হবে দলের। আর আমরাও কনফার্ম হতে পারলাম যে দল কোন পথে হাঠছে। বাকিটা সময় কথা বলবে’।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার তার ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘মা ( খালেদা জিয়া) তুমি কি জানে তোমার দলের কিছু ভিক্ষারী কেন্দ্রীয় নেতা দলকে এমপি কেন্দ্রীক করছে (সামান্য আর্থিক লাভের জন্য)ক্ষমতায় আসার আগে দলকে এমপি কেন্দ্রীক করলে দল শক্তিশালী হয়না, তখন দলের মধ্য বিরোধ সৃষ্টি হয় প্রতিটি ইউনিট পর্যায়ে। (বাস্তব অভিজ্ঞতা আলোকে লেখা -২০০৪)’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here