নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কিস্তিতে প্লট বিক্রির ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাত এবং কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতি প্রতারনার অভিযোগে শামীম তারেক (৪৫) নামে এক আবাসান ব্যবসায়ী প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত শামীন তারেক ফতুল্লার দেলপাড়া টাওয়ার পাড় এলাকার মৃত কে এম সোয়েক মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চানমারীস্থ ৩২ নং মুকবল প্লাজার তৃতীয় তলায় অবস্থিত হিমালয় চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এর মালিক মোশারফ হোসেন তার ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাদী হয়ে প্রতারক শামীম তারেককে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় গত ১৪ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলা নং-৬৪। মামলার অপর আসামীরা হলেন, ফতুল্লার দক্ষিন সস্তাপুর এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল হোসেন (৪৮), শাহী মহল্লা কুতুবপুর এলাকার মৃত জুলহাস উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে দিদার হোসেন (৪২) এবং দেলপাড়া কুতুবপুর এলাকার কে এম আলম খানের ছেলে গাউছুল আজম ওরফে রানা (৪৭)।

মামলার বিররনে ভূক্তভোগী মোশারফ হোসেন জানান, ২০১১ সালে সৃজন হাউজিং কোম্পানীর মালিক শামীম তারেকের প্রলোভনে পড়ে ১৮ শতাংশের একটি প্লট এবং ৪.৪৫ শতাংশের আরেকটি প্লট তিনি কিস্তিতে ক্রয় করেন। মাসিক কিস্তি ৫০ হাজার টাকা করে দুটি প্লটের বিপরীতে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা তিনি শামীম তারেককে প্রদান করেন। কিন্তু উক্ত টাকা পরিশোধ করাকালীন ২০১৬ সালের ফেব্রয়ারী মাসে সরেজমিনে গিয়ে দেখে তাকে সোনরগাঁও থানার বস্তুল মৌজার সৃজন হাউজিং এর নক্সা অনুযায়ী তাকে দেওয়া প্লট দুটি নাই। ওই প্লট দুটিতে বি.আর স্পিনিং কোম্পনীর একটি সাইনবোর্ড টানানো এবং কোম্পানী কর্তৃক বাউন্ডারী দেওয়া হয়েছে। আশপাশের জমির মালিকদের নিকট জানতে পারি এখানে সৃজন হাউজিং কোস্পানীর কোন জমি নেই।

ভুক্তভুগী আরো জানান, এ বিষয়ে তিনি শামীম তারেকের সাথে যোগাযোগ করলে তার ৩৫ লক্ষ টাকা দেই দিচ্ছি করে ঘুরাতে থাকে। এ ঘটনায় তিনি গত ৮ আগষ্ট ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেন, যার নং-৩৯০। পরবর্তীতে প্রতারক শামীম তারেক এবং এই মামলার অপর ৪ আসামীদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩৪৯/১৭ দায়ের করেন তিনি। মামলা দায়েরের পর উক্ত মামলার আসামীরা মামলা উঠিয়ে নিতে তাকে প্রাননাশের হুমকি দিলে তিনি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে এ বিষয়ে গত ১৭ আগষ্ট একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে গত ১১ অক্টোবর ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজার আদালতে মানব পাচার ধারায় ২৬৩/১৬ নং একটি মামলা দায়ের করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করান। ওই মামলায় তিনি কক্সবাজার নারী ও শিশু আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে জানায় বর্ণিত নাম্বারে অত্র আদালতে এই মামলাটি দায়ের হয় নাই। মামলাটি সম্পূর্ণ ভূয়া ও বানোয়াট বলে জানায় আদালত।

মোশারফ হোসেন জানান, তার ৩৫ লক্ষ আত্মসাতের জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর সৃজন হাউজিং কোম্পনীতে বসে অত্র মামলার আসামীগন আদালতের সীল ও স্বাক্ষর জাল করে তার বিরুদ্ধে এই ভূয়া ও বানোয়াট ওয়ারেন্ট তৈরী করে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী শামীম তারেক একজন মহা প্রতারক। সে সৃজন হাউিজিং নামে একটি আবাসন প্রকল্পের অফিস নিয়ে বহু মানুষকে প্লট দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলার বাদী মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে ভূয়া ও বানোয়াট একটি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here