নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে বিষ খাইয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় স্যুট টাই পড়া সেই ‘বন্ধু’ কে এখনো সনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন।
র‌্যাব ও পুলিশের দাবী, তারা মাইশাকে জোরপূর্বক বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানো ব্যাক্তিসহ প্রাইভেট কারে বসে থাকা আরো তিন যুবককে গ্রেফতারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা তদন্তের মাধ্যমে শীঘ্রই এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন তারা।

এদিকে, মাইশার মা সেলিনা ওয়াজেদ মিনু বৃহস্পতিবার বিকেলে এঘটনায় অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামী করে অপহরন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইশা সাংবাদিকদের জানান, ‘বুধবার কোচিং শেষে বাড়ী ফেরার পথে একটি গাড়িতে করে তিনজন লোক আমার এখানে এসেছিল। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে কালো ব্লেজার, পার্পেল শার্ট, কালো চশমা, কালো স্যুট আর কালো প্যান্ট পরিহিত একজনই আমাকে আমার বাবার বন্ধু পরিচয় দিয়ে সিঁড়িতে এসে কথা বলে। রোকটির বয়স আনুমানিক আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হবে। আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে নানা কথা বলতে থাকে, সে আমার বাবার বন্ধু সেটা সে বুঝাতে চেষ্টা করে।’

প্রাপ্তি বলেন, ‘এরপর লোকটি মঙ্গলবার সাতু খুনের রায় হাইকোর্টে বহাল থাকায় আমার বাবা ভাল করেছে বলে জোর করে মুখে মিষ্টি খাইয়ে পানি পান করিয়ে দেয়। তারপর আমি দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে রিক্সা নিয়ে গলাচিপা মোড়ে আসতেই বাবাকে ফোন করে ঘটনা জানাই। রিক্সা নিয়ে আসার সময় আমি পিছনে ফিরে দেখি ঐ লোক গাড়িতে উঠে গাড়ি ঘুরিয়ে ২নং রেলে গেটের দিকে চলে গেছে। গাড়িতে ড্রাইভারসহ তিনজন বসা ছিল।’

মেয়ের বরাত দিয়ে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ‘তার মেয়েকে যে বন্ধু পরিচয়ে এসে বিষ জাতীয় মিষ্টি খাইয়েছেন, সে নিজেকে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির খালেদ হায়দার কাজলের বন্ধু বলেও নাকি পরিচয় দিয়েছিলেন।’

তাই সচেতন মহলের অভিমত, ‘বন্ধু’ পরিচয় দানকারী সেই ব্যাক্তিকে খুঁজে পাওয়া গেলেই পিি কণ্যা মাইশাকে মিষ্টির সাথে বিষ খাওয়ানোর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

এব্যাপারে র‌্যাব-১১’র মিডিয়া উইং সিনিয়র এএসপি শাহ মো: মশিউর রহমান জানান, ‘প্রাপ্তিকে বিষ খাওয়ানোর ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সিনিয়র এএসপি জসীম উদ্দিন তদন্ত করছেন। আশা করছি শীঘ্রই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে।’

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাপ্তিকে মিষ্টি খাওয়ানো তার বাবার বন্ধু পরিচয়দানকারী ব্যাক্তিটিকে খুঁজতে বিভিন্ন ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে পাওয়া গেলেই রহস্যেও উন্মোচন হবে। আশাকরি শীঘ্রই অভিযুক্তদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, ২৩ আগস্ট বুধবার রাতে সাত খুন মামলা পরিচালনা করা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি বুধবার নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উল্টো দিকে অবস্থিত হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তার মামা তৌহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহুর্তে পড়া শেষ করে ওই বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে নিচ তলায় নেমে নিজেদের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল সে। ঐসময় কোচিং সেন্টারের সামনে গিয়ে বাবার বন্ধু পরিচয় দিয়ে মাইশাকে তার মুখে মিষ্টির সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে দেয় অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা। পরে প্রাপ্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই সে বাসায় ফিরে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here