নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সেটআপ বক্স থেকে সরকার রাজস্ব পায় এবং গ্রাহক স্পষ্ট বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন, তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বচ্ছ বিনোদন উপভোগের স্বার্থেই গ্রাহক পর্যায়ে সেটআপ বক্স বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান, এসবি স্যাটেলাইট ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের স্বত্ত্বাধিকারী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু।
সম্প্রতি নারীদের জনপ্রিয় দু’টি ভারতীয় ক্যাবল চ্যানেল স্টার জলসা ও জি বাংলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে সেটআপ বক্স নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে এবং জনগণের মন থেকে ভ্রান্ত ধারনা দূর করতে বুধবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর পাইকপাড়াস্থ আমিনা মঞ্জিল নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

আব্দুল করিম বাবু বলেন, ‘প্রতিটি সেটআপ বক্স থেকে সরকারী কোষাগারে রাজস্ব জমা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে প্রতিটি ক্যাবল টিভিতে সেটআপ বক্স বাধ্যবাধকতা করবেন। এমন নির্দেশনা খুব শিঘ্রই আসছে। কিন্তু সেটআপ বক্স গ্রাহকদের চাপিয়ে দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়।’

তিনি দাবী করেন, ‘স্বচ্ছ বিনোদনের জন্য গ্রাহকরা সেটআপ বক্স ক্রয় করছেন। কাউকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে না। এলাকাভিত্তিক ক্যাবল টিভি অপারেটররা সেটআপ বক্স উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে, এটা এসবি ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের কোন বিষয় নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বাবু বলেন, ‘এসবি ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে যে সেটআপ বক্স্র গ্রাহকদের দেয়া হয় তার মূল্য ৩ হাজার টাকা। বেশ কিছু অপারেটর তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে বেআইনীভাবে উচ্চ মূল্যে সেটআপ বক্স বিক্রি করে থাকে। তাই আমি গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যদি কোন অপারেটর সেটআপ বক্স ৩ হাজার টাকার বেশী মূল্যে বিক্রি করে থাকেন তাহলে আপনারা সরাসরি এসবি স্যাটেলাইটের অফিস থেকে বক্সটি ক্রয় করবেন। আর মাসিক ভাড়া পূর্বেও ন্যায় ৩শ টাকাই থাকবে। কেউ বর্ধিত করলে কিংবা লাইনে বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করলে আপনারা মাসিক বিল দেয়া বন্ধ করে দিবেন।’

বাবু প্রশ্ন করেন, ‘শুধু নারায়ণগঞ্জে নয়। ঢাকাতেও গ্রাহকরা সেটআপ বক্স ব্যবহার করছে। তবে নারায়ণগঞ্জেই শুধু সেটআপ বক্স নিয়ে বিতর্ক কেন।’

সেটআপ বক্সের বাইরে জনপ্রিয় চ্যানেলগুলো দেখা যায় না কেনো ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাবু বলেন, ‘আমরা দেশীয় সংস্কৃতির কিছু চ্যানেল এমনিই বন্ধ করে দিয়েছি। তবে সেটআপ বক্স ব্যবহার করলে তা এমনিই চলে আসে। এনালগ সিস্টেমে ক্যাবল টিভি গ্রাহকরা ৪০ টি চ্যানেল দেখতে পায়। আর সেটআপ বক্স ব্যবহার করলে ২’শরও বেশি চ্যানেল দেখতে পাবে গ্রাহকরা। দেশ ডিজিটালের দিকে এগিে যাচ্ছে, আর সেটআপ বক্স সেই ডিজিটালেরই একটি অংশ।’

ক্যাবল টিভির এনালগ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েন। কিন্তু সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি না দিয়ে ক্যাবল অপারেটররা মাসে মাসে ঠিকই টাকা নিচ্ছেন । এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি ? জবাবে বাবু বলেন, যে এলাকার গ্রাহকরা ভালভাবে টিভি দেখতে না পারেন, তারা লাইন ঠিক না করা পর্যন্ত অপারেটরদের মাসিক বিল দিবেন না। কোন রকম গাফলতি হলে আমাকে গ্রাহকরা জানাতে পারেন।

অন্য প্রসঙ্গে বাবু বলেন, ‘আমি আমার বাবার পরিচয়ে চলি, নিজের চেষ্টাতে এ পর্যন্ত এসেছি। কারো নাম ভাঙ্গিয়ে আমি ব্যবসা করিনা। আমি শামীম ওসমানের রাজনীতি করি। সেক্ষেত্রে ব্যবসা তাঁর নাম ভাঙ্গিয়ে করি এটা ঠিক নয়।’

বাবু বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা জাতির বিবেক। তাই ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কারো সুনাম ক্ষুন্ন করবেন না, এটাই প্রত্যাশা করি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here