নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’ প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করলেন ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু।
শত অপবাদ আর অপরাধের পরও বিএনপি চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারের বদান্যতায় সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিনের সাথে সেন্টুর মিলন হলেও আবারো সরকারী দলের দালালী করতে গিয়ে সেই গিয়াসউদ্দিনকেই ছোট করতে দ্বিধা করলেন না সেন্টু।

ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রাক্কালে প্রধামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে কুতুবপুর ইউনিয়ন দেলপাড়া মাঠে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের এক জনসভায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের প্রশংসা করতে গিয়ে সেন্টু পক্ষান্তরে নিজ দলের সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিনকেই অপমান করে বসলেন, যা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীদের হৃদয়ে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ডিএনডিবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে প্রকল্প ঘোষনার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান ফতুল্লায় জনসভার আয়োজন করে গত ১৯ অক্টোবর। সমাবেশে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ‘ডিএনডি জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এখানকার মানুষ। এ মুক্তির কারিগর আমার বড় ভাই এমপি শামীম ওসমান। এমপি শামীম ওসমান যে ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প এনেছেন এতে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এ জন্য তিনি সকলের অন্তরে থাকবেন। উনি আমার বড় ভাই, বিগত তিন বছরে এখানে শতকোটি টাকার কাজ হয়েছে শামীম ওসমানের হাত ধরে। আর কোন এমপি’র সময়ে ফতুল্লায় এতো উন্নয়ন হয়নি, আর এটাই বাস্তবতা। দলমত নির্বিশেষে উনি সকলের জন্য কাজ করেছেন’।

এদিকে সরকারী দলের চাটুকার হিসেবে পরিচিত মনিরুল আলম সেন্টুর এই প্রকাশ্য দালালিতে হতভম্ভ হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিনের সাথে একই মঞ্চে বসে আন্দোলন সংগ্রামের ঘোষনা দেয়ার মাত্র মাস কয়েক পরেই নিজের স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে সরকারী দলের সাংসদের গুণকীর্ত্তণ করতে গিয়ে সেই গিয়াসউদ্দিনের অবদানকেই বেমালুম ভুলে গেলেন সেন্টু। সেন্টুর এই নির্লজ্জ আচরনে ক্ষোভে ফেটে পরছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র হাই কমান্ডের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় দল থেকে বহিস্কৃত সেন্টুর দলে পুনরায় অন্তর্ভূক্তির জন্য এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে দায়ী করছে তৃণমূল। আর এবার সরকারী দলের চামচামী করে নিজ দলের সাবেক সাংসদকে অপমান করায় আজীবনের জন্য সেন্টুকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here