বাংলাদেশ বাদে টেস্ট খেলুড়ে নয়টা দেশ আগেই নিজেদের শততম টেস্ট খেলে ফেলেছে। তবে, শততম টেস্টে জিতে যাওয়ার নজির আছে কেবল বাংলাদেশসহ চারটি দেশের। বাকিরা হল অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান।

সেই অর্থে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে দেশের শততম টেস্টে জয় পেলেন মুশফিকুর রহিম। তিনি চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার সিড গ্রেগরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্যারি সোবার্স ও পাকিস্তানের মুশতাক মোহাম্মদের কাতারে। মুশফিক অবশ্য পরিসংখ্যান মতে এমনিতেই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক। ৩০টির মধ্যে ছয়টিই এসেছে তার নেতৃত্বে।

২২ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ দিকে গিয়ে অধিনায়কত্ব পান সিড গ্রেগরি। ১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার শততম টেস্টের অধিনায়কত্ব করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ইনিংস ও ৮৮ রানে। সেটাই শততম টেস্ট জয়ের প্রথম নজীর।

দ্বিতীয় নজীরটা ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্সের দখলে। ১৯৬৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শততম টেস্টে জয় এনে দিয়েছিলেন স্যার গ্যারি সোবার্স। জ্যামাইকার কিংসটাউনে সাবাইনা পার্কে সেবার প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জয়টা এসেছিল ১৭৯ রানের ব্যবধানে। সোবার্স সেই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে করেছিলেন ৫৭ রান। বাঁ-হাতি স্পিন বোলিংয়েও পেয়েছিলেন দুই উইকেট।

এর এক যুগেরও বেশি সময় পর শততম টেস্টে জয় পায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল। কাকতালীয়ভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত এবারও প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার পাকিস্তান রীতিমত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে উড়িয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। অধিনায়ক মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বে জয়ের ব্যবধান ছিল ৭১ রানের।    এরপরের ৩৮ বছরে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে নিজেদের শততম টেস্ট খেলেছে। কিন্তু জিততে পারেনি কেউই। সেই অচলায়তন ভাঙলেন মুশফিকুর রহিম। তিনি বাংলাদেশের শততম টেস্টে জয় এনে দিলেন।

নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য এক উচ্চতায়। এই জয়ে ব্যাটসম্যান কিংবা উইকেটরক্ষক হিসেবেও মুশফিকের অবদান কম নয়। প্রথম ইনিংসে দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। রান তাড়া করতেও তিনি ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। নট আউট থেকে জয় নিয়েই ফিরেছেন।

শুধু তাই নয়, দুই ইনিংস মিলে পাঁচটি ডিসমিসালও যোগ হয়েছে মুশফিকের নামের পাশে। প্রথম বাংলাদেশি উইকেটরক্ষক হিসেবে ১০০ ডিসমিসালেরও মালিক বনে গেলেন তিনি।

আর তার নেতৃত্বে এবার বাংলাদেশও শততম টেস্টে জয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ চলে গেল সেরাদের কাতারে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here