নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে সাম্প্রতিক সময়ে ‘নৌকার’ দাবী করে আসা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার সম্মুখেই এবার খোদ জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান জেলার সকল আসনেই উল্টো ‘নৌকার’ প্রার্থী চাইলেন।
যা অনেকটা ‘ভূতের মুখে রামের নাম’ নেয়ার মতনই বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত একাধিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। কেউ কেউ আবার বলতে শুরু করেন, তবে কি সেলিম ওসমান আগামী নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামীলীগে যোগ দিতে যাচ্ছেন! নাকি এটা রাজনৈতিক গুঁটির চাল দিলেন তিনি।

আর সেলিম ওসমানের মুখে ‘নৌকার’ দাবী শুনে বিস্মিত হতবাক হয়ে যান একই মঞ্চে উপবিষ্ট মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ এই দুই নেতা।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আসন্ন দূর্গোৎসব উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় এমনই ঘটনা ঘটে।

আক্ষেপের সুরে সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি যেদিন এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিন বলেছিলাম আমরা কেউ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করবো না। কিন্তু আমরা কথা রাখতে পারিনি। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান, সেই সূত্রে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ঘাঁটি। আর তাই অন্য সবার মতো আমিও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে নৌকার প্রার্থী চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে মানা করবেন, আমি নির্বাচন করবো না। তবে নির্বাচন বড় কথা নয়, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নই মূল কথা। তাই আসুন আর ঝগড়া নয়, আমরা সবাই মিলে মিশে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করি। আমাদের নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দের কারনে আমরা এখনো পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী পাইনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ আরো বলেন, ‘আনোয়ার ভাই আমার রাজনৈতিক গুরু। তিনি আমার মুরুব্বি। এমনকি তিনি নারায়ণগঞ্জের সকল সাংসদের মুরুব্বি। আপনি আপনার চাহিদার চেয়ে অনেক বড় কিছু পেছেন। আপনি সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে অনেক বড়, সমস্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। আপনার নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্য আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছি হাসপাতালের জন্য, কিন্তু এর একটি টাকাও খরচ করতে পারিনি। আপনি এর কারন জেলা প্রশাসককে জিজ্ঞেস করুন, কেন এমন হলো। উন্নয়ন কাজ সেলিম ওসমানের অধীনে হবে বলে কি জেলা প্রশাসক হাসপাতালের কাজ আটকে রেখেছেন! এটা খোকন সাহা করতে পারে, কারন সেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু জেলা প্রশাসক কেন করবে।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি জাতীয় পার্টির এমপি হয়েও বঙ্গবন্ধুর জন্য এতো বড় একটা অনুষ্ঠান করলাম, কিন্তু আনোয়ার ভাই খোকন সাহা এলেন না। আমি দেখলাম তাদের গাড়ি আমার সামনে দিয়ে চলে গেলো, ডাকতেও পারলাম না। কিন্তু মনে বড় কষ্ট পেলাম।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মহানগর যুব মহিলালীগের একটি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ‘নৌকার’ প্রার্থী দাবী করে আসছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। এমনকি বন্দরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্যকালে স্থানীয় জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান সম্পর্কেও বিষেদাগার মূলক মন্তব্য করেন উভয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here