নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘কোন গার্মেন্টে বসে জাতীয় পার্টির আসন ভাগাভাগির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে’- নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে দেয়া এমন জ¦ালাময়ী বক্তব্যের পর এবার ইউটার্ন নিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।
আর একসময়কার তুখোড় ছাত্র নেতার হঠাৎ নমনীয় ইউটার্নকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারন, যেই ভিপি বাদল এতটা গর্জে উঠে কোন গার্মেন্টে বসে লাঙ্গলের প্রার্থী দেয়া চলবে না বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া ছাতু খাবি’- এমপি সেলিম ওসমান নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্তর পর এখন বাদল আবার হঠাৎ সুর পাল্টিয়ে বলছেন, ‘সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক তার গার্মেন্টেসে বসে চাইবেন নাকি অন্য কোথাও বসে চাইবেন সেটা তাঁর ব্যাপার’। যা নি:সন্দেহে রহস্যজনক।

উল্লেখ, গত ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য প্রদানকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল সেলিম ওসমানকে ইঙ্গিত করে (গার্মেন্টসে বসে আসন ভাগাভাগির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে, নারায়ণগঞ্জে লাঙ্গলকে কোন আসন ছাড় দেয়া হবে না, সকল আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়া হবে) মন্তব্য করার পর নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে বেশ আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তারপরের দিন থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিম ওসমান স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের কাছে বাদলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাঁর দাদা মরহুম খান সাহেব ওসমান আলীর উদ্ধৃত্তি দিয়ে বলেছেন, ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’।

বাদলের কঠোর সমালোচনা করে সেলিম ওসমান তাঁকে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানান। যেই কলেজে বাদল দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সেলিম ওসমান বলেন, শামীম ওসমানের সাথে থেকেও বাদল উন্নয়ণের রাজনীতি শিখতে পারেনি। স্নেহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তমান কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন।

আর সেলিম ওসমানের প্রতিক্রিয়ার পর গত ২৪ এপ্রিল বিকেলে নগরীর নগরীর ২নং রেলগেটস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ড আয়োজিত ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল সেইদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ‘সেলিম ওসমান একজন দানশীল এমপি। উনাকে আমি শ্রদ্ধা করি, উনিও আাকে ¯েœহ করেন। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক তার গার্মেন্টেসে বসে চাইবেন নাকি অন্য কোথাও বসে চাইবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাওয়ার অধিকার আমার রয়েছে, এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। তবে নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনা যেই সিদ্ধান্ত নিবেন, আমরা সেটাই মেনে নিব।’

আর নারায়ণগঞ্জ কলেজের ফান্ড সম্পর্কে সেলিম ওসমানের দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে বাদল দাবী করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান আমাকে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি কলেজের দায়িত্ব ছেড়ে আসার সময় ১০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ও কলেজ ফান্ডে ৩ কোটি টাকা রেখে এসেছিলাম। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কোন দূর্নীতি করিনি বিধায় পরপর তিনবার নারায়ণগঞ্জ কলেজ জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জণ করেছিল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here