নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, সোনারগাঁ প্রতিনিধি: সোনারগাঁয়ে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান কৃষিজমি ও পাশ্ববর্তী মারিখালী নদী এবং সরকারী দুটি হালট দখল করে জোরপূর্বক দখল বালু ভরাট করায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বৈদ্যেরবাজার এলাকায় কোম্পানির পক্ষের লোকজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে এ উত্তোজনা চলছে।
যে কোন মুর্হুতে ওই এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে নদী দখল ও সড়ক ও জনপদের জমি দখলের সত্যতা পায় স্থানীয় প্রশাসন। এসময় বালু ভরাট কাজ ও টিনের তৈরি সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে টিনের তৈরি সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করে।

এলাকাবাসীকে ভাংচুরে উসকে দেওয়ার সন্দেহে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা রেবায়েত হোসেন শান্ত ও বালু ভরাটে জড়িত জাহিদুল নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে মুচলেকা দিয়ে দুপুরে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৈদ্যেরবাজার মাছঘাট এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে কয়েকটি ড্রেজারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী মারীখালি নদী দখল করে ‘হেরিটেজ পলিমার এন্ড সেমি টিউবস লিমিটেড’ নামের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফের মাধ্যমে বালু ভরাট করে নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ নদী দিয়ে কাইকারটেক হাট, উদ্ধবগঞ্জবাজার ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ীদের নদী পথে মালামাল পরিবহন ও যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও কৃষিজমি ক্রয় না করেই ওই কোম্পানির লোকজন জোড়পূর্বক বালু ভরাট করছে। ওই এলাকার হাজী আজিজুল্লাহর ৭টি দাগে প্রায় ১ একর ১০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী সুরাইয়া করিম মুন্নীর সঙ্গে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সুরাইয়া করিম মুন্নী বিরোধকৃত জমি ‘হেরিটেজ পলিমার এন্ড সেমি টিউবস লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফা কামাল ওরফে আল মোস্তফার নিকট বিক্রি করে দেন। মো. মোস্তফা কামাল ওরফে আল মোস্তফা বিরোধকৃত জমিতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফের নেতৃত্বে ৩০-৩৫জনের একটি সিন্ডিকেট ওই জমির পাশ্ববর্তী দোকানপাট উচ্ছেদ করে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও ওই এলাকার নিরীহ প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেন, মজিবুর রহমান,শাহজালাল, হাজী গোলাম মোস্তফাসহ প্রায় ১০-১২জনের জমি ক্রয় না করেই কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বালু ভরাটের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচী করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শাহিনুর ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

পরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মশিউর রহমানকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সার্ভেয়ার মশিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদী, সরকারী হালট ও সড়ক ও জনপদের জায়গা দখলের সত্যতা পান। এসময় সার্ভেয়ার ওই কোম্পানির লোকজনকে বালু ভরাট ও সড়ক ও জনপদের জায়গায় গড়ে তোলা সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে ভাংচুরে উসকে দেওয়ার সন্দেহে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা রুবায়েত হোসেন শান্ত ও বালু ভরাটে জড়িত জাহিদুল নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে মুচলেকা দিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবিএম রুহুল আমিন রিমন বলেন, ঘটনাস্থলে সার্ভেয়ার পাঠানো হয়েছে। আমি বর্তমানে ঢাকায় প্রশিক্ষনে আছি। বুধবার আমি নিজে সরেজমিন তদন্ত করে নদী ও সরকারী হালট দখলমুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ করে দেবো।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। সঠিক দলিলপত্র থাকলে কোম্পানির কাছ থেকে জমির টাকা আদায় করে দেওয়া হবে। তবে আন্দোলনের নামে কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here