নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ পয়দা করতে হবে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সদর উপজেলাধীন পঞ্চবটীতে অবস্থিত বধ্যভূমি ৭১’র অজ্ঞাতনামা শহীদদের স্মরণে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ ও এনায়েতনগর ইউপি শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজনে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পূর্বক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমস্ত লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তুলকে তাঁর মনে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ১৯৭১’র পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করে। তারা চেয়েছিল জাতির জনকের স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করতে, কিন্তু আল্লাহর রহমতে তাঁরই কন্যা জাননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁরই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে এখন এগিয়ে যাচ্ছেন। আর এই সোনার বাংলা গড়তে অভিভাবকদের সোনার মানুষ পয়দা করতে হবে।’


তিনি আরো বলেন, ‘যারা জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করেছে তারা আজো মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একের পর এক অরাজকতা ও নাশকতা চালাতে তারা তৎপর রয়েছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় তাদের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পঞ্চবটীর এই বধ্যভূমির রূপ আগামী ৩ মাসের মধ্যে পাল্টে যাবে। এটি আধুনিকায়নে ২০ লাখ টাকা জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জেবীন বিনতে শেখ তার বক্তব্যে বলেন, ‘এনায়েতনগর ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা ওয়েল সংলগ্ন স্থানে হানাদার বাহিনী, যে অজ্ঞাতনামা শহীদদের ধরে এনে নির্মম হত্যা যজ্ঞ চালিয়েছিল,সেই বীর শহীদদের আমাদের মনে রাখতে হবে। তাঁদের সম্মান করতে হবে। এই বধ্য ভূমিটিকে আরো সুন্দর করা হবে। জেলা পরিষদ ও উপজেলার যৌথ প্রচেষ্টা থাকবে এতে।’


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দীন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের সম্পদ। জাতি তাঁদের কৃতজ্ঞতার সাথে সব সময় স্মরণ করবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি যদি দেখি তাহলে প্রথমেই বলতে হবে ভাষা আন্দোলনের কথা। এরপর ৭০ এর নির্বাচন। বাঙ্গালী জাতির প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার কারণে মুক্তিযুদ্ধের ডাক। আর বঙ্গবন্ধুর ডাকেই সারা দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষনের মধ্য দিয়ে,যে স্বাধীনতার স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল তা-ই মূলত ২৬ মার্চ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হামলা চালিয়েছিল। সে হামলায় অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। বাঙ্গালী জাতিকে মেধা শূন্য করতে হানদাররা ৭১ সালে ১৫ ডিসেম্বর রাতে আত্ম সমর্পণ করার প্রাক্কালে হত্যা যজ্ঞ চালিয়েছিল।’

আলোচনা সভার পর অজ্ঞাতনামা শহীদদের স্মরণে বধ্যভূমিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর চৈতন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here