নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের গুলির পর এলোপাথারি কুপিয়ে কাউন্টার টেররিজমের পুলিশ কন্সটেবল রুবেল মাহমুদ সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে আদালতকে জানিয়েছেন আসামী পাভেল।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আফতাব উদ্দিন এর আদালতে ১৬৪ ধারায় আসামী পাভেলের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এসময় পাভেল আদালতকে জানান, ঘটনার দিন প্রথমে স্বপন চেয়ারম্যানের গুলিতে বিদ্ধ হন কনস্টেবল রুবেল।এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে সেখানে উপস্থিত প্রায় ২০/২৫ জন গ্রামবাসী মিলে তাকে এলোপাথারি ভাবে কুপায়। তারপর জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে সবাই পালিয়ে যায়।

পাভেল কালাপাহাড়িয়া গ্রামের মৃত. আজগর আলীর ছেলে ও মালয়েশিয়ায় অধ্যয়ণরত।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস।

এরআগে গত শুক্রবার বিকেলে পাভেল সহ ৩ জন আসামীকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল জেলা ডিবি। এদের মধ্যে ২জন ডিবির হেফজতে রয়েছে।

আদালতে আসামী পাভেলের দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি’র এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন মোট ৫টি হত্যাকান্ডে জড়িত রয়েছে। এরমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান হতে তার প্রথম হত্যাকান্ডের শিকার হয় আড়াইহাজারের খাগকান্দা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির সিরাজী। চেয়ারম্যান হওয়ার পর আরো ৪টি হত্যা করেছে স্বপন। প্রতিটি হত্যাকান্ডে স্বপন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া থাকায় এসআই নাসির সিরাজীসহ পৃথক ৪টি হত্যায় স্বপন আসামী হয়নি। কনেষ্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় হত্যা করায় এটি থেকে স্বপন নিজের নাম আড়াল করতে পারেনি।

তিনি আরো জানান, রুবেল হত্যাকান্ডের দিন চেয়ারম্যান স্বপনের ডাকে ৩ থেকে ৪শ লোক একত্রিত হয়। এরপর স্বপন গুলি করলে রুবেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ২০ থেকে ২৫জন মিলে রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। অন্যরা বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুট করে।

নিহত রুবেলের বড় ভাই মামলার বাদী কামাল হোসেন জানান, তার বাবা রূপ মিয়া মেম্বার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি। আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা হওয়ায় তাকে বার বার নির্যাতিত হতে হয়েছে। সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে একাধিকবার তাদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। তার বাবা রূপ মিয়ার হাত কেটে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এরপরও তার বাবাকে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে রুবেলকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। প্রভাব বিস্তারের কারনে রুবেলকে হত্যা করে চেয়ারম্যান স্বপন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here