নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: স্বামীর পরকিয়া আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনস্থ নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ শাখার শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার। গত মাসে ২০ তারিখে পূর্ব দেলপাড়ার আব্দুল মান্নান মিয়ার বাড়ি ভাড়াটিয়া খাদিজা আক্তার করে। তবে নিজ ইচ্ছেতে নয় আত্মহত্যা করতে খাদিজাকে বাধ্য করেছিল তার স্বামী এজাজ ইবনে মাহামুদ ওরফে মিলু এমনটাই অভিযোগ নিহত খাদিজার পরিবারের।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আত্মহত্যার এক ঘন্টা আগেও খুব ভাই ছিল নিহত খাদিজা। আত্মহত্যার দশ মিনিট আগে খাদিজার স্বামী মিলু নির্যাতন চালায়। নির্যাতন সয্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করে। এছাড়াও দীঘদিন যাবত অন্য এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল মিলুর। আর এই কারণেই খাদিজার উপর মিলু নির্যাতন চালাতো। মৃত্যুর পর খাদিজার শরীরে আঘাতের চিহৃ ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

আত্মহত্যার পর ফতুল্লা মডেল থানার এসআই অটল দাস খাদিজার লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি তার স্বামী মিলুকেও আটক করে। তবে রহস্যজনক কারণে ভোল পাল্টে ফেলেন এসআই অটল দাস। এসআই অটল দাস মিলুকে ছেড়ে দিয়ে নিহতের মা মরিয়ম বেগমকে দিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করান আর সেখানে উল্লেখ করেন, নিহত খাদিজা অভিমানী ও জেদী প্রকৃতির মেয়ে ছিল। অথচ নিহতের পরিবারের পাশাপাশি সহপাঠী এমনকি শিক্ষকরাও জানিয়েছে শান্ত ও নানা গুনে গুনান্তি ছিল খাদিজা।

খাদিজার মা মরিয়ম বেগমের সাথে কথা বললে তিরি জানায়, এসআই আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেছে আমি করেছি। আর কিছু জানিনা। যখন একদিন পর জেনেছি তখন নতুন করে অভিযোগ পত্র লিখে থানায় জমা দিতে চাইলে এসআই অটল দাস চারদিন ঘুরিয়ে ঐ অভিযোগ পত্রটি থানায় জমা দিতে দেয়নি। সে আমার সাথে ছলচাতুরি করেছে।

স্বামীর নির্যাতন অথবা আত্মহত্যার প্রলোভনকারী ৩০২ (খ) ধারা মতাবেক শাক্তি যোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের প্রভাষক এড. রবিউল আলম রনী।

তিনি বলেন, কেউ আত্মহত্যা করলে পুলিশের দায়িত্ব কেন আত্মহত্যা করলো তা তদন্ত করে বের করা। আর যদি কারো প্রলোভনে কেউ আত্মহত্যা করে তাহলে অবশ্যই প্রলোভনকারী বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক নারী আত্মহত্যা করলেও পুলিশ এর সঠিক তদন্ত করছে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here