নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার দিয়ে রান্না ও রোগীদের খাবার বিতরণ করায় রোগীর আত্বীয় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার রোগীদের দুপুরে রোগীর আত্বিয়রা এর প্রতিবাদ করায় রোগী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে অশ্লালীন আচরন করেছে সুইপার সখিনা। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. মোঃ আব্দুল কাদেরের কাছে রোগীর আত্বিয়রা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন। গতকাল শনিবার সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায় সুইপার সখিনা হাসপাতালের রোগীদের জন্য রান্না করছে।

এ সময় সাংবাদিকরা তার ছবি তোলতে গেলে সে সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যায়। স্থানীয় এলাকার হওয়ায় ও দীর্ঘ ১৮ বছর একই স্থানে কর্মরত থাকায় সে প্রভাব বিস্তার করে রোগীদের সাথে খারাপ আচরন করে বেড়ায়। যার দরুন অনেক রোগী কাউকে কিছু না বলেই হাসপাতাল ত্যাগ করে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এ ধরণের অশ্লালীন আচরনের ফলে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর দিয়ে জেলা সিভিল সার্জন দফতরে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান মুকুলের সাখে আলাপ করলে তিনি বলেন, যেখানে অসংগতি সেখানেই প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি জেলার মিটিংয়ে এ বিসয়ে কথা বলব ব্যবস্থা নিতে।

এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকের ইনচার্জ ডা. মোঃ আব্দুল কাদেরর সাথে আলাপ করেল তিনি বলেন, জনবল সংকটের ফলে অনেক সময় এক জনের কাজ অন্যজনকে দিয়ে করা হয়। তিনি সুইপার দিয়ে রোগীদের খাবার বিতরণের কথা স্বীকার কলে বলেন, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগে ছিল ৩১ শয্যা। বর্তমানে ৫০ শয্যা হলেও জনবল নেই। ৩১ শয্যায় যে জনবল দরকার তার চেয়েও কম রয়েছে। এ দিয়ে আমরা সেবার মান আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি করেছি। যেখানে আগে মাসে ৩/৪টি নরমাল ডেলিভারী হতো আর এখন আমাদের চেষ্টায় ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাসে ৯/১০টি নরমাল ডেলিভারী করাতে সক্ষম হয়েছি। এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে করে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা খরচ থেকে বেঁচে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান বন্দর উপজেলায় ১৫ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও মাত্র ১১ জন ডাক্তার রয়েছে। ৪টি পদই শূন্য। এভাবে ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে এ হাসপাতালে। তাই চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, চিকিৎসার মান কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও সেবার মান বৃদ্ধি পায়নি। যেমন সুইপার দিয়ে খাবার বিতরণ, দারোয়ান না থাকায় ছিচকে চোর ও মাদকসেবীদের উপদ্রব রয়েছে হাসপাতালে। সেই সাথে সুইপার সখিনার অপসারণ দাবি করেন তারা। এ থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনের নজর দেয়া জরুরী বলে মনে করেন।

এ ব্যপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: এহসানুল হকের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, সরকার ২০১৩ সাল থেকে নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। আমরা মন্ত্রনালয়ে লেখা লেখি করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন নিয়োগ চালু করলেই শূন্যপদে নতুন নিয়োগ দেয়া শুরু হবে। সুইপার দিয়ে খাবার বিতরণ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here