নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: জেলা বিএনপি’র সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছেন, অ‘ামরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সৈনিক। আমরা কোন আন্ডারগ্রাউন্ডে সমাবেশ করি না। রাজপথে শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাবেশ করি। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশেও অনুমতি দিচ্ছে না। সরকারের মদদে তারা আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিঘœ ঘটিয়ে আমাদের ব্যানার, মাইক কেড়ে নিয়ে হয়রানী করছে। দেশের গণতন্ত্র আজ পুলিশের বুটের তলায় পিষ্ট। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে দিতে চাই, আপনার পুলিশ বাহিনীকে শান্ত হতে বলুন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে। এই স্বৈরাচারী সরকারকে হেঁচকা টান দিয়ে ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত করবে। তখন এই অমানবিক কর্মকান্ডের বিচার অবশ্যই হবে।’

গত সপ্তাহে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ বিতরন শেষে ঢাকায় ফেরার পথে বিএনপি চেয়াসপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে দুবৃর্ত্তদের হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী আহূত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪ টায় নগরীর চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির আয়োজনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত স্থান থাকলেও পুলিশের বাঁধার মুখে পরবর্তীতে চাষাড়া বালুর মাঠ সড়কের গলিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মামুন মাহমুদ আরো বলেন, ‘এ সরকার অগনতান্ত্রিক সরকার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ সরকার সেনা শাসকদের সাথে আঁতাত করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে অগনতান্ত্রিক ভাবে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। আগামী নির্বাচন নিয়েও তারা নানান টালবাহানা করছে। বিএনপি যতোবারই তাদের সহায়ক সরকারের পরামর্শ দিচ্ছে, ততোবারই তারা ইস্যু ঘুরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রনেই নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। মিথ্যাবাদী হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার যে স্বপ্ন দেখছেন, তা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। যদি সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনিপ যতোবারই নির্বাচনে লড়বে, ততোবারই আ’লীগের বিপক্ষে জয়ী হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ এখন গুম-খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্তিতির এতোটাই অবনতি হয়েছে যে এখন শহরে সাত খুন, পাঁচ খুন এবং জোড়া খুনের মতোও ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেইসবে দৃষ্টি না দিয়ে বিএনিপ নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ে ব্যস্ত। তবে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এইসব হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের শান্ত রাখা যাবে না। আমাদের শান্ত করতে হলে আগে এইসকল ঘটনার সাথে যেই সন্ত্রাসীরা জড়িত, তাদের কে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। নারায়ণগঞ্জের অশান্ত পরিস্থিতি শান্ত করুন। নতুবা আমাদের উপড় আপনারা যতো হামলা-মামলা চালাবেন, আমরা ততোই কঠোর আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।’

জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুর, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ-সাংগঠনিক রুহুল আমিন শিকদার, সহ-সভাপতি আব্দুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, যুবদল নেতা রিয়াজুল ইসলাম, একরামুল কবির মামুন, নাদিম হাসান মিঠু, নজরুল ইসলাম পান্না, সেচ্ছাসেবক দল তো মীর মোহাম্মদ আলী, মহিলাদল নেত্রী রহিমা শরিফ মায়া, রুমা আক্তার, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান রনি, মনিরুল ইসলাম রবি, আশরাফুল হক রিপন, শাহজাহান আলী, মানিকসহ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here