নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি থামাতে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ফোন করেছিল বলে দাবী করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

যেই কারনে তিনি সিটি মেয়র আইভী পন্থীদের সাথে সৃষ্ট রণক্ষেত্র থামাতে হকারদের শান্ত করতে রাজপথে নামতে বাধ্য হন।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) বিকেলে হকার ইস্যুতে চাষাড়ায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আইভীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ‘দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে মানবতার মা হিসেবে সারা পৃথিবীতে যাকে মাদার অব হিউমিনিটি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, সেই জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে যেখানে নেত্রী একনেকের মিটিংয়ে নেত্রী পরিষ্কার ভাবে বলেছেন, কোন জায়গায় পূনর্বাসন ছাড়া কোথাও কোন উচ্ছেদ চলবে না। এটা ওনার বক্তব্য। সেখানে আমরা বলিনাই নারায়ণগঞ্জের হকাররা নিয়মিত বসবে। আমি বলেছি আগামী ২/৪ দিনের মধ্যেও যদি সম্ভব হয়, হকারদের সুযোগ দেন, যাতে অন্তত তারা পুঁজিটা সংগ্রহ করে বিকল্প কিছু করতে পারে। আমি চাইনা বাংলাদেশে কোন ফুটপাতে হকার থাকুক, বা বস্তি থাকুক।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতি যেহেতু করি, যদি গরিব মানুষের পক্ষে কথা বলতে না পারি তাহলে রাজনীতি করা উচিত না। এখানে আজকে যে কাজটা হয়েছে, আমি খুব লজ্জিত এবং দুঃখিত আমি দেখলাম, মেয়র নিজে নেতৃত্ব দিলেন ২/৩’শ লোক নিয়ে, আমি নিজে দেখিনাই তবে সাংবাদিকদের কাছে শুনলাম, মেয়রের ডান পাশে বাম পাশে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, একজন ছিলেন যুবদলের আহ্বায়ক খোরশেদ, আরেকজন ছিলেন যাকে পুলিশ খুজছেন যে দুইটা খুনের আসামী, তারা আসলো। রাজপথে এলোপাথাড়ি ভাবে, যাকে সামনে পেয়েছে হকার পিটিয়েছে। সাধারণ মানুষ বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও আহত করা হয়েছে।,

পুলিশের আচরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশ সেখানে যে ভূমিকা নিয়েছে, আমি তো অবাক হয়েছি, পুলিশের আচরণ দেখে, যেহেতু পুলিশ সরকারের একটি অংশ দূর্বল হকারদের উপড়ে লাগাতার তাদের উপড়ে রাবার বুলেট ছাড়া হয়েছে। টিয়ারশেল মারা হয়েছে। বহু হকারস এবং সাধারণ মানুষ আমাকে দেখিয়ে গেছে যে তারা নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছে। বহু সাধারণ মানুষও গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশও গুলি করেছে এবং আমি শুনলাম মেয়রের গাড়ির পাশে থেকে সুফিয়ান নামে একজন লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গুলি করেছে। পুলিশের সামনে দিয়ে লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়েও কেউ গুলি করতে পারে না। এটা নিস্পত্তি হওয়া দরকার। মেয়র আমার সম্পর্কে কি বললো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কারণ এটা মেয়রের সাথে আমার বিবেধ না। ৫ হাজার লোক রাস্তায় বসলে মহাভারত অসুদ্ধ হয়ে যাবে না। যদি মানুষের কষ্টে হয়, তারা ভাববেন আমার এই কষ্টের কারণে যদি মানুষের রিজিকের যোগার হয়, তা সদগায় জারিয়া হবে। আমি ধর্মীয় ও মানবতার দৃষ্টি থেকেই কথাগুলো বলছিলাম। কিন্তু মেয়র আইভী আজকে বিএনপি কে সাথে নিয়ে যে কাজ করলেন, আমি মনে করি সরকারি ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা গরীব মানুষের পক্ষে ছিলাম, আছি ও থাকবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘প্রশাসন যদি আমার পক্ষে হতো, তাহলে তো প্রশাসন হকারদের উপড় গুলি ছুড়তো না। আমি তো হকারদের পক্ষে ছিলাম। গুলি তো হয়েছে হকারস রা। আহত হয়েছে হকাররা। তাহলে তার (আইভীর) উপড় হামলা হলো কীভাবে। আর মেয়র কি এটা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন। তিন চারশ লোকের মিছিল নিয়ে এসছেন। যদি বিষয়টা নারায়ণগঞ্জেরই হয়, তাহলে তিনি তিন চার লাখ লোক নিয়ে আসতেন। তাহলে বুঝতাম তারা নারায়ণগঞ্জের মানুষই নিয়ে এসেছেন। ওনি বিএনপি’র লোকদের সাথে নিয়ে এসেছেন। ওনি কেন বুঝতে পারছেন না, ওনার কাধে পারা দিয়ে বিএনপি’র নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে আসলেন মানুষের উপড় হামলা করলেন। এই বক্তব্য তো বিএনপি’র বক্তব্য। প্রশাসনকে তাবেদার বলা তো বিএনপি’র খোরশেদ ও বিভার বক্তব্য। তারা যদি তাবেদার হয় তাহলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ডিসি কিংবা এসপি’র উপড় ভরসা করে আমরা রাজনীতি করিনাই, কখনো করবোও না। যারা নিজেদের খুব দুর্বল ভাবে, তারাই প্রশাসনের উপড় ভরসা করে। তবে প্রশাসন যেভাবে হকারদের উপড় লাঠিচার্জ করেছে, আমি দৌড়ে গেছি একটাই কারণে, আমার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আমাকে ফোন করে বলেছেন পরিস্থিতি শান্ত করতে। আমি না গেলে গন্ডগোল আরো বড় হতো, সেটাতো আপনারা দেখেছেন। আমি কষ্ট করে হলেও তাদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে যেভাবেই হউক আমি সেখান থেকে সবাইকে ফেরত নিয়ে এসেছি। কারণ এটা একটা মানবিক বিষয়। আমি তাকে কেন মারতে যাবো। আমি তাকে মারতে চাইলে তো গত নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করতাম না। তাকে পাশ করাতাম না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here