নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয় যা এখনো চলমান। ৮ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জকে করোনার রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে নারায়ণগঞ্জকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ কার্যত অচল হয়ে পরে। মানুষের বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া প্রতিরোধে কাজ করতে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে খুলতে থাকে তৈরী পোষাক কারখানাগুলো। রমজানে রোজাদারদের ইফতারের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে হোটেল রেস্তোরা। এখন ঘোষনা এসেছে ঈদ উপলক্ষে দোকানপাট ও বিপনীবিতান খুলে দেয়্রা। এসব কিছুর আচ লাগতে শুরু করেছে বানিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জেও। ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে বসতে শুরু করে দিয়েছেন হকাররা, শহরের সড়কেও বেড়ে গেছে যান চলাচল। লকডাউনের মধ্যেই চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করে করেছে নারায়ণগঞ্জ শহর।

সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কের আশেপাশে ডিআইটি থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে রাস্তায় যানবাহন চলাচল আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাছাড়া সড়কের ফুটপাতে অনেক স্থানে নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসতে দেখা গেছে হকারদের। শহরের চাষাঢ়া হকার মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান খোলা দেখা গেছে। তাছাড়া গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়ার এ সংশ্লিষ্ট কর্মব্যস্ততাও বেড়ে গেছে নগরীজুড়ে। করোনায় থমকে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ শহর ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে, আগের রূপে ফিরে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। যদিও প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের রেড জোন হিসেবে এখনো চিহ্নিত আছে নারায়ণগঞ্জের নাম, বহাল রয়েছে লকডাউন। তাই যে কোন ধরনের বড় বিপর্যয়ের শংকা রয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বাংলাদেশেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরছে সর্বত্র। স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই, ঘোষনা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছিলো সরকার, কয়েক দফা বেড়ে ১৬ মে পর্যন্ত ঘোষনা হয়েছে সেই ছুটি। সেই সাথে দেশের সকল মার্কেট, সুপার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ঘোষনা করেছে দোকান মালিক সমিতি, বন্ধ হয়ে গেছে গন পরিবহন। শুধুমাত্র নিত্যপন্যের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া বাকী সব বন্ধ রয়েছে। সারাদেশের রাজনীতিবীদরা চেষ্টা করছেন করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে চলছে সাহায্য সহযোগিতা। সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। সকলকে সচেতন করছেন করোনার কবল থেকে মুক্তি পেতে সতর্ক থক জন্য। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকলকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে সরকার। আর যারা প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here