নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরী মালিক সমিতির সভাপতি মতিউল্লাহ মিন্টু বলেছেন, সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তা না হলে সন্ত্রাসী খুনিদের জন্য যে আইন, তা নিরীহ শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য করতো না। যে দেশের রাস্তায় গাড়ি, গরু, রিক্সা, মানুষ একসাথে চলে, সে দেশের রাস্তায় দূর্ঘটনা ঘটবেই। তার জন্য ড্রাইভারের ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা কিংবা যাবজ্জীবন জেল কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে সরকার যদি এই কালো আইন বাতিল না করে, তাহলে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭ বাতিলের দাবীতে সারাদেশে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রবিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুর রহমান মানিক বলেন, জঙ্গিবাদের প্রভাবে সারাদেশ যখন অচল হয়ে গিয়েছিলো, তখন আমরাই মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে দেশ সচল রেখেছিলাম। পেট্রোল বোমার আঘাতে সে সময় আমাদের অনেক ভাই জীবন দিয়েছেন, অনেকে চীর জীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন। তারপরও আমাদের উপর কেন এই নির্যাতন! ২৫ লক্ষ টাকা থাকলে কেউ ড্রাইভারী করতো না। সে শিল্পপতি হয়ে যেতো। আজকের এই মানববন্ধন হলো প্রতিবাদের শুরু। আগামী ১ মে আমরা আধাবেলা গাড়ি বন্ধ রেখে জনসভা করে সরকারকে জানাবো। ২ তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধাণমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো। এই কালো আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ রাজপথ ছাড়বো না। প্রয়োজনে স্রাাদেশের সকল গাড়ির চাকা বন্ধ রেখে দেশ অচল করে দেয়া হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, আমাদের গাড়ির বাম্পার খুলে ফেলা হচ্ছে, অথচ যে মন্ত্রী এই আইন করেছেন, তার গাড়িতেও বাম্পার রয়েছে। বাম্পার রয়েছে নারায়ণগঞ্জের এমপি, মেয়র ও ডিসি এসপির গাড়িতে। এমনকি যে ম্যাজিষ্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গাড়ির বাম্পার অপসারণ করছেন, তার গাড়িতেও বাম্পার রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কারও চোখে পড়ে না। চোখে পড়ে আমাদের গাড়ির বাম্পারগুলো। আর তাই আমাদের গাড়ির বাম্পার অপসারণের আগে তাদের গাড়ি থেকে বাম্পার খুলতে হবে।

তারা আরো বলেন, ঢাকা থেকে চিটাগাং যেতে আসতে আমাদের আট হাজার টাকা দিতে হয় স্কেলের জন্য। স্কেলের নামে চাঁদাবাজির একটা পাঁয়তারা চালাচ্ছে তারা। স্কেলে মাল উঠিয়ে টাকা নিচ্ছে অথচ তার রশিদ দিচ্ছে না। এরকম নানাভাবে তারা আমাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। ফাইভ পাশ করে একটা শ্রমিক গাড়ির হেলপারি করবে ১০ বছর, তারপর ড্রাইভার হওয়ার জন্য সে আবার স্কুলে ভর্তি হবে-এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই সড়ক পরিবহন আইন ২০১৭ এর বাতিলের দাবীতে আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরী মালিক সমিতির সভাপতি মতিউল্লাহ মিন্টু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, কাভার্ড ভ্রান ও ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন টিয়া, চর সৈয়দপুর মালিক সমিতির সভাপতি আশীর হোসেন, জালকুঁড়ি শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, আলীগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী আসাদসহ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here