নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নগরীর ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের লক্ষ্যে এবার কাক ডাকা ভোরে অভিযান চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। আর এটিকে উচ্ছেদের নামে প্রায় ২৫ লাখ মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ হকাররা।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ভোর ৫ টায় নাসিক কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নগরীর ২নং রেল গেইট এলাকা ও মাধবী প্লাজা মার্কেটের সামনে ফুটপাতের উপর হকারদের রেখে যাওয়া সকল মালামাল ময়লার গাড়ীতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন সেখানে কোন হকার উপস্থিত ছিল না।

ফুটপাতের পাশে বিভিন্ন মার্কেটে দায়িত্বরত প্রহরীরা জানান, ভোর বেলায় নাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা তুলতে এসে ময়লাবাহী গাড়ীতে করেই ফুটপাতের উপর থাকা হকারদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অনেক পরিচ্ছন্ন কর্মী মালামাল গাড়ীতে তুলার সময় যে যেভাবে পেরেছে হকারদের দঁড়িবাঁধা বাক্স খুলেই মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলে।

কাক ডাকা ভোরে নগরীর কয়েকটি স্থানে উচ্ছেদের নামে নাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রীতিমত মালামাল লুটের তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ হকাররা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার নেতা জানান, ‘চাষাড়াস্থ মাধবী প্লাজার সামনে ফুটপাতে নাসিক কর্তৃপক্ষ কখনো অভিযান চালায় না বিধায় এখানকার প্রায় ৫০ জন হকার তাদের দোকানে থাকা মালামাল গুলো এখানেই বেঁধে রেখে প্রতিদিন চলে যেতো। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে কেউ না থাকার সুবাধে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা হকারদের মালামাল গুলো ময়লাবাহী গাড়ীতে লুট করে নিয়ে যায়।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘ভোরের আঁধারে নাসিকের পরিচ্ছন কর্মীদের এই অভিযানটি উচ্ছেদ নয়, বরং লুটপাটের মহোৎসব হয়েছে। প্রত্যেকটি দোকানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার করে মালামাল ছিল। পাশাপাশি অনেকের নগদ টাকাও ছিল। আমাদের গরীবের উপর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের এমন অত্যাচার আল্লাহ কোনদিনই সইবে না।’

এদিকে, কাক ডাকা ভোরে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের কবলে পরে মালামাল খুঁইয়ে চোখে এখন শুধুই অন্ধকার দেখছেন বলে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ হকাররা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম এহতেশামুল হক নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘সাধারনত দিনের বেলায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পূর্বেই হকাররা তাদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলায় উচ্ছেদ অভিযান ব্যহত হয়। তাই এবার ভোরে হকার উচ্ছেদে ফুটপাতে অভিযান চালানো হয়েছে।’

কিন্তু উচ্ছেদকৃত মালামাল ফেরত দেয়া হবে কিনা এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘আপাদত হকারদের মালামাল গুলো মন্ডলপাড়াস্থ সিটি কর্পোরেশনের গ্যারেজে রাখা হয়েছে। এগুলোর জব্দ তালিকা সম্পন্নের পর মেয়র মহোদয় যা সিদ্ধান্ত দিবেন, সেই ভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উচ্ছেদ অভিযানে অংশ গ্রহন করেন, নাসিক এর বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মিরাজ, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরন, মোঃ আবুল হোসেন, পরিচ্ছন্ন (সিআই) মোঃ রাশেদুল ইসলাম রানা সহ প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here