নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নগরীর ফুটপাতে হকার উচ্ছেদে এবার নিজেই অভিযান চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি মার্কেটের নীচে রাখা হকারদের মালামাল ক্রোক করে নগর ভবনে এনে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় মেয়র আইভী প্রথমে চাষাড়াস্থ মর্ডান ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনে যেয়ে হঠাৎ উপস্থিত হন।

কিন্তু তখন সেখানে কোন হকার বসতে না দেখে সরাসরি পায়ে হেঁটেই চলে যান সড়কের অপর প্রান্তে মুক্তি জেনারেল ক্লিনিকের সামনে। তখন আইভীকে দেখে হকাররা অন্যত্র সরে গেলেও ক্লিনিকের ভেতরে রাখা হকারদের সকল মালামাল ক্রোক করে নিয়ে যান।

এরপর আরেকটু এগিয়ে গিয়ে সমবায় ব্যাংকের নির্মানাধীন বহুতল ভবনের সামনে যান আইভী। নির্মানাধীন এই ভবনের নীচ তলায় হকারদের মালামাল রাখার কারনে তখন আইভী তাৎক্ষনিক সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করে হকারদের মালামাল রাখার বিষয়ে অবহিত করেন। এবং উক্ত ভবন নির্মানের ঠিকাদারকে শাসিয়ে যান। যদি পরবর্তীতে এই মার্কেটের মধ্যে হকারদের মালামাল পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করার হুঁশিয়ারী দেন আইভী বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক হকার।

তারপর হকারদের জব্দকৃত হাজার হাজার টাকার মালামাল গুলো নগর ভবনে নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন আইভী। এসময় মালামাল গুলো আগুনে না পুড়িয়ে প্রয়োজনে জরিমানা করে ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানালেও কোন হকারকে নগর ভবনে প্রবেশ করতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

অথচ, গত মঙ্গলবার ভোরে নাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা হকারদের যেই সকল মালামাল জব্দ করে এনছিল, সেগুলো বৃহস্পতিবার ফেরত দেয়া না দেয়ার ব্যাপারে মেয়র সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছিলেন নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম এহতেশামুল হক।

যার ফলে মালামাল ফেরত পাওয়ার অধীর আগ্রহে নগর ভবনে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিলেন ক্ষতিগ্রস্থ হকাররা। কিন্তু বিধি বাম! অসহায় গরীব হকারদের মালামাল গুলো ফেরত দেয়া তো দূরের কথা, উল্টো তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। আর কষ্টার্জিত অর্থে কেনা মালামাল চোখের সামনে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হকার। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়র আমাদের মত গরীব মানুষের উপর যে নির্মম আচরন করলো, তা আল্লাহ সইবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here