নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর এলাকার শহিদুল আলম নামে এক ব্যাবসায়ী ও তার স্ত্রী মেয়েকে হজ্জে পাঠানোর নামে প্রতারনা করে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্থানীয় কারিমিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সায়েম।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়নে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভুগী ব্যবসায়ী শহিদুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের পেছনে অবস্থিত কারিমিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সায়েমের দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত থাকায় তার সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সূত্র ধরে গত গত ২৩ আগষ্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় নিয়ে যাবে তার স্ত্রী ও মেয়ে সহ তিন জনকে। হজ্জ করার জন্য ১৬ লক্ষ টাকার একটি চুক্তি হয় তার সাথে। চুক্তি বাবদ তাদেরকে সৌদি বিমান যোগে খাওয়া দাওয়া, উন্নত হোটেলে রাখা সহ হজ্জের সকল আনুষ্ঠানিকতা এই টাকার মধ্যে সম্পূর্ন করবেন বলে স্বীকার করেন আবু সায়েম। এরপর গত গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরত নিয়ে আসবে।

তিনি আরো জানান, গত ২৩ আগষ্ট তাদেরেক সৌদি এয়ালাইন্সে না পাঠিয়ে ২৫ আগষ্ট বাংলাদেশ বিমানে তাদেরকে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর কথা অনুয়ায়ী তাদের জন্য কোন ব্যবস্থাই আবু সায়েম করেন নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও সে বন্ধ করে দেয়। তিনি জেদ্দা বিমান বন্দরে প্রায় ৭ ঘন্টা বসে থাকে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ হজ্জ মিশনের মাধ্যমে একটি বাস যোগার করে অন্যান্য হাজীদের সহিত মক্কায় পৌছায়। তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে রাতের বেলায় রাস্তায় রাত্রি যাপন করেন। পরে একজন বাঙ্গালী লেবার শ্রেণী লোকের সহায়তায় মক্কার মেছফালাহ্ নামক একটি হোটেলের ছাদের রুমে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। প্রতারক আবু সায়েমের বিরুদ্ধে মক্কার হজ্জ মিশন বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিয়োগ দায়ের করেন শহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, প্রতারক আবু সায়েম বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রোহিঙ্গা পাচারসহ অনৈতিক কাজ ও নারী পাচারের সাথে জরিত। সে ঢাকার গুলিস্তানে রাস্তায় বসে এক সময় আতর বিক্রি করতো। এখন সে অনেক টাকার মালিক। তার রয়েছে বিলাশ বহুল বাড়ি ও অফিস। তার বাড়ী বরিশাল জেলায়।

এছাড়া তিনি এ বিষয়ে গত ৫ অক্টোবর বাদী হয়ে শহিদুল ইসলাম শিক্ষক আবু সায়েমের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে ফতুল্লা ামডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭৯৬৬(৩)/১। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, শহিদুল ইসলামের ভাই সুজাউদ্দিন আহমেদ, গোলাম রাব্বনী, মান্যেজার সফিকুল ইসলাম ভূইয়া সহ প্রমূখ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here