নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারী দলের মদদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর প্রশাসন আবারো চড়াও হচ্ছে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিনা কারনে দলীয় নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে পাল্টা মামলা দায়েরের কারনে ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তির ঘটার আশংকা প্রকাশ করেছেন তারা।
অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠন ও পুলিশের বাঁধার কারনে তৃণমূলের এমন ধারনার জন্ম হয়েছে। আর তাদের এই মারমূখী আচরনের কারনে রাজপথে কর্মসূচির বদলে গৃহবন্দি কর্মসূচি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। যা আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে তৃণমূল।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, এরপর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সংগঠিত করার জন্য সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের অবস্থাও নাজেহাল। সরকারী দলের মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে যাযাবর জীবন যাপণ করছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাঠ পর্যায়ের এসব তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূচি ঘোষনা করে বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন স্থানে পুলিশী বাঁধার মুখে পরতে হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার সময় পুলিশ বাঁধা দিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়। একইভাবে বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারের উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূচিতে বাঁধা দেয় পুলিশ।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র‌্যালীর আয়োজন করা হয় ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে থেকেই সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল করে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে সরকারী দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান ভন্ডুল করে দেয়। এ সময় ক্ষুব্দ বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু এই ঘটনায় উল্টো পুলিশ বিএনপি নেতা আজাদসহ ৮৭ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে ‘ভিশন-২০৩০’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করার প্রস্তুতি নিতে চাইলেও নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশ তা গত মাসে আর করার অনুমতি দেয়নি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর সরকারী দল ও পুলিশের এই অগণতান্ত্রিক আচরনে ক্ষোভ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র অংশগ্রহনের সবুজ সংকেত পাওয়ায় ক্ষমতাসীনদের এই অমানবিক আচরন বলে মনে করছেন তারা। নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে না দেওয়ার কুট কৌশল হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছে তারা এবং সরকারের আজ্ঞাবহ প্রশাসনকে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবী নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূলের। সুষ্ঠ নির্বাচনে বিএনপি বিশাল ব্যবধানে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকে পরাজিত করে সরকার গঠন করবে বলে ভয়ে তারা এই অন্ধকার পথ বেছে নিয়েছে এবং এই পথেই তাদের পতন ঘটবে বলে হুঁশিয়ারী তাদের। আর ফের মামলা হামলা করে যদি ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে এরজন্য সরকার ও তার পালিত পুলিশ প্রশাসনই দায়ী থাকবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here