নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স’র শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

রবিবার (২৩ জুলাই বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে বক্তব্য শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি যুক্তিতে বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা বহাল চাই। সাক্ষীতে উঠে এসেছে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন নূর হোসেন ও তারেক সাঈদ। আর এই হত্যাকাণ্ড অপরাধ জগতের এক নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত।

গত ২২ মে হাইকোর্টের এই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপন শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল মান্নান মোহন।

এর আগে গত ১৭ মে আলোচিত এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

আর গত ১৬ মে এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ পলাতক আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ৭ দিনের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সলিসিডর অফিসের প্রতি এই নির্দেশ দেয়া হয়।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়।

অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা দায়ের করেন।

উপরোক্ত মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাত খুন মামলায় সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। এছাড়া নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা কারাগারে আটক রয়েছেন তারা হাইকোর্টে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আর নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here