নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে উল্টো তাদের হাতেই চুপিসারে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের বই তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহানগর আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগ জানিয়েছেন খোদ মহানগরের আওতাধীন বন্দর থানার ৯টি ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা। যার ফলে বেশ মর্মাহত হয়েছেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এম এ রশীদ।

যার প্রেক্ষিতে বন্দর থানাধীন ৯ টি ওয়ার্ডে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম অভিযানের লক্ষ্যে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে চুপিসারে বই হস্তান্তরের প্রতিবাদে গত ২২ অক্টোবর বিকেলে নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড নবীগঞ্জে মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে এম এ রশীদ মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বন্দরে ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতাদের না জানিয়ে ‘হাইব্রীড’ নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহ বই তুলে দেওয়ার ঘটনায় বেশ মর্মাহত হয়েছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা। মহানগরের দায়িত্বশীল কতিপয় নেতা’র এমন আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এনিয়ে যদি কোন উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়ভার মহানগর আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।’

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। তিনি উল্টো নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডির কাছে দাবী করেন, ‘বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি হচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের অধীন। তাই তিনি মহানগর আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন কথা বলার এখতিয়ারই রাখেন না।’

অথচ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময় দলের মধ্যে যেন কোন ধরনের ‘হাইব্রীড’ নেতার অনুপ্রবেশ না ঘটে সেজন্য তাদের ঠেকানোর মিশনে নামে মহানগর আওয়ামীলীগ।

গত ২০ মে গনভবনে সারাদেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি/সাধারন সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী রোধে নেতাদের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের মধ্যে ‘কাউয়া’ এবং ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের চিহিৃত ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

যার প্রেক্ষিতে আগামী জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলের মধ্যে যেন কোন ধরনের ‘হাইব্রীড’ নেতা প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য করা হুঁিশয়ারী উচ্চারন করে আসছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন।

গত ৯ জুন বন্দরে ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কর্মী সভায় আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মহানগর আওয়ামীলীগে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। আগামীতে দলে কোন ‘হাইব্রীড’ নেতাকে স্থান দেয়া হবেনা। এসে মধু খেয়ে চলে যাবেন তা আর কোন দিনই করতে দেয়া হবেনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই বলে বেড়ান আওয়ামীলীগের নাকি বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। আমি বলি না আওয়ামীলীগের কোন বিভাজন নেই। বিভাজন ‘হাইব্রীডদের’ মধ্যে রয়েছে। আগামীতে পদ হারানোর ভয়ে ‘হাইব্রীডরা’ দলে কোন্দল সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করার নীল নকশা করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে বাংলার জমিনে আওয়ামীলীগের চুল পরিমাণ ক্ষতি করতে পারবেনা ইনশাল্লাহ। আমরা কর্মীরা যারা আছি জীবন দিয়ে হলেও আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব রক্ষায় আজীবন কাজ করে যাবো।’

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাও বলেছেন, ‘দলের মধ্যে থাকা ‘কাউয়া’ আর ‘‘হাইব্রীড’ নেতাদের বিতাড়িত করতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যেন দলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য নেতাদের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।’

অথচ, খোদ এই শীর্ষদের নেতাদের বিরুদ্ধেই দলের মধ্যে ‘হাইব্রীড’ অনুপ্রবেশ করানোর অভিযোগ তুলছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। যা নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগে নতুন করে বিভাজনের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রাজননৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে গণভবনে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২৫ হাজার সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনায় ২৭ টি ওয়ার্ডে আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় মহানগর আওয়ামীলীগ।

গত ৭ জুন দুপুরে চাষাড়া ডাক বাংলোয় আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সভায় সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপর গত ৩০ জুলাই জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও অদ্যবধি এই কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগ। তন্মধ্যে চলতি মাসের প্রথমার্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপিকে প্রধান অতিথি করে মহানগর আওয়ামীলীগ সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনীর দিনক্ষণ ঠিক করলেও পরবর্তীতে অনিবার্য কারনে ফের স্থগিত হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here