নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দেশের প্রধান ২ রাজনৈতিক দলে অনু:প্রবেশের ঘটনা নুতন নয়। এই দুই দলের নেতারা ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী থেকে আওয়ামীলীগ বা বিএনপিতে অনুপ্রবেশের ঘটনাও নতুন কিছু নয়। তবে এসব অনুপ্রবেশকারীরা নিজেদের আখের গোছাতে যেমন সুসময়ে চলে আসে ,তেমনি দলের দু:সময়ে কেটেও পরে। তারচেয়েও ভয়ঙ্কর দিক হল, এসব হাইব্রীড নেতারা দলের মধ্যকার কোন্দল বিভেদ সৃষ্টি ও বিরোধ জিইয়ে রাখতে অনেক বেশী পারদর্শী। নারায়ণগঞ্জে এমন একজন হাইব্রীড অনুপ্রবেশকারী হলেন সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান সৈকত হোসেন। কোন রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিজ্ঞতা না থাকলেও শুধুমাত্র পরিবারের অর্থ সম্পদের উপর ভর করে তিনি এখন আওয়ামীলীগার।

কখনো শামীম ওসমান, কখনো সেলিম ওসমান কিংবা কখনো আইভী, এভাবেই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুই পিঠে থেকেই নিজের রাজনীতি পরিচালিত করে যাচ্ছেন তিনি। কিছুদিন পূর্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলে “কাউয়া” নেতাদের আগমণ নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, সৈকত হোসেন ঠিক তেমন প্রকৃতিরই একজন নেতা। যাকে নিয়ে বিব্রত খোদ তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। এনিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নিজের সাফাই গাইতে ব্যস্ত এই ইউপি মেম্বার। তার ভাষ্য মতে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সকলের কাছেই যেতে পারেন। কিন্তু হকার ইস্যু নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এসে মেয়র আইভীর পক্ষে রীতিমত সংঘর্ষ লড়াই করেছেন কোন প্ল্যাটফরম থেকে, এমন প্রশ্নের উত্তর নেই সুচতুর এই হাইব্রীডের।

জানাযায়, তরুন এই রাজনৈতিক সৈকত হোসেন সদর উপজেলার গোগনগর ৪নং ইউপি মেম্বার। পারিবারিক সূত্রে কেউ রাজনীতির সাথে সক্রিয় না থাকলেও তার চাচা আলমাস আলী জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে গুজব রয়েছে। তবে এলাকাবাসী জানান, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভাতিজাকে ক্ষমতাসীণ দলের কর্মী হিসেবে যোগ দেয়ান চাচা। এরপর নৌকার কর্মী হিসেবে গত ইউপি নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে বিজয়ী হন সৈকত। এরপরই শুরু হয় তার ভিন্নধর্মী নির্বাচনী পথচলা। কখনো আইভীর জনসমাবেশে তাকে দেখা যাবে মেয়রের সাথে সেলফিরত অবস্থায়, কিংবা কখনো শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমানের জন¯্রােতেও তাকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো মঞ্চে লক্ষ্য করা যায়। এমনকি গত ১৬ জুন হকার সংঘর্ষের সময় আইভী শিবিরে তাকে সক্রিয় অবস্থানে দেখা গছে। সেখানে হকারদের ইটে আহত হয়েও তিনি বেশ সাহসীকতার সাথে মেয়র আইভীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন, হকারদের বিরুদ্ধেও ইট যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আবার গতকাল শামীম ওসমানের কর্মী সভাতেও তিনি ছিলেন বেশ সক্রিয়।এদিকে গত সপ্তাহে অসুস্থ অবস্থায় মেয়র আইভী যখন ঢাকা ল্যাব এইড হসপিটালে ভর্তি ছিলেন, তখনও মেয়রের ক্যাবিনে সেলফিরত অবস্থায় দেখা গেছে এই সুচতুর তরুণ রাজনৈতিক কে। অথচ মেয়রের ক্যাবিনে কেবলমাত্র সরকার দলীয় নেতাকর্মী এবং তার ঘনিষ্ঠজন ছাড়া আর কাউকেই লক্ষ্য করা যায়নি।

ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, সৈকত আসলে কার? নাকী সকলের সাথে তলখাতির রেখে নিজের ভবিষ্যতকে শংকা মুক্ত রাখতেই গিরগিটির মতো রং বদলানো রাজনীতিতে ব্যস্ত এই হাইব্রীড নেতা!

আবার অনেকেই বলছেন, জামাত-শিবিরের এজেন্ট হয়েই সৈকত আওয়ামীলীগের ক্ষমতাশীনদের সাথে ঘাপটি মেরে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here