নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ জাতীয় পার্টির বিরোধী বনে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্যে কয়েক মাস যাবত বেশ জোরালো দাবী জানিয়ে আসছেন ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সকল আসনেই সর্বপ্রথম ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার দাবী উথাপন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত আয়োজিত এক সমাবেশে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে প্রথম ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়েছিলেন তিনি।

মূলত জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তখন ‘নৌকার’ প্রার্থীর দাবী তোলা হয়েছিল বলে জানায় তৃণমূল।

কিন্তু তারপরেই নারায়ণগঞ্জের সকল আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার দাবী জানানোর পাশাপাশি বিশেষ করে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া আরেকটি নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী দাবী উথাপিত হতে থাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের কাছ থেকে।

দলীয় যেকোন অনুষ্ঠানেই পর্যায়ক্রমে তারা উভয়েই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়ার জোর দাবী তুলতে শুরু করেন।
গত বছরের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধনীতে আগত প্রধান অতিথি আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এবং বিশেষ অতিথি আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় সম্পাদক ব্যারিষ্টার নওফেল চৌধুরীর নিকট নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনেই একাদশ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেয়া জোর দাবী জানান আব্দুল হাই, বাদলসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। পাশাপাশি তারা এও দাবী তুলেন, যদি আগামীতেও জাতীয় পার্টিকে কোন আসন ছাড় দিতেই হয়, তবে যেন তা অন্য কোন জেলার আসনে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় এই দুই নেতা নারায়ণগঞ্জের নেতাদের দাবীর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানাবেন বলে আশ^স্ত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন।

কিন্তু হঠাৎ আব্দুল হাইয়ের জাপা বিদ্বেষী মনোভাব এবং সকল আসনেই নৌকার প্রার্থী দাবীর নেপথ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা অন্যকিছু ভাবলেও বাস্তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আব্দুল হাই ও এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল ‘নৌকার’ প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যেই কৌশলগত ভাবে সকল আসনেই দলীয় প্রার্থী দেয়ার জোর দাবী জানিয়ে আসছিলেন বলে মন্তব্য করেন শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল মনোনয়ন চাইবেন এটা আগে থেকেই নেতাকর্মীরা অবগত থাকলেও আব্দুল হাইও যে পূর্ব প্রত্যাশিত নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকেই মনোনয়ন চাইবেন, সেটা ছিল সকলেরই অপ্রত্যাশিত।

তাই এতদিন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার দাবী জানানোর নেপথ্যে কার্যত সদর-বন্দর আসনে নিজের প্রার্থীতার প্রস্তুতি নেয়ার উদ্দেশ্যটিই ছিল মুখ্য, সেটা সম্প্রতি আব্দুল হাইয়ের মুখেই হয়ে গেছে স্পষ্ট।

কারন, তিনি স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রূপগঞ্জ নয়, বরং সদর-বন্দর আসন থেকেই একাদশ নির্বাচনে ‘নৌকার’ প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি আগামী মার্চ মাস থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন।

আর এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল এখনো স্পষ্ট না করলেও বিভিন্ন কৌশলে ঠিকই নিজের নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন তিনি বলে জানান তার ঘনিষ্টজনেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here