নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সম্প্রতি বন্যায় যখন ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দিশেহারা হাওরবাসী, তখন তাদের সহায়তায় চাঁদা তুলে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গসহ বামপন্থী নেতাকর্মী।
অথচ, এখন মাসের পর মাস নিজেদের জেলায়ই ডিএনডি বাঁধের মানুষ জলাবদ্ধতার কারনে চোখের পানি ফেললেও তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেয়নি বামপন্থী খ্যাত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলে অকাল বন্যায় দূর্গতদের সাহায্যার্থে হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য “দূর্গত হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ান, ডুবছে হাওরবাসী আমরা কি জাগবো না” শ্লোগানে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে মানববন্ধনসহ তহবিল সংগ্রহ করেন বামপন্থী নেতৃবৃন্দরা। এরপর তারা উত্তোলনকৃত তহবিল নিয়ে হাইয়েচ গাড়ীতে চড়ে হাওরে যেয়ে করেন সহযোগিতা।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি এলাকায় মাসের পর মাস লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দূর্দশায় জীবন কাটালেও তাদের পাশে গিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি বামপন্থী নেতৃবৃন্দরা।

জানাগেছে, বছর ঘুরেই জলাবদ্ধতা যেন ‘অভিশাপ’ হিসেবে রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর ডিএনডিবাসীর জীবনে। সম্প্রতি চলমান বৃষ্টি দূর্ভোগের মাত্রা যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রোঁদের মলিন হাসিতে যখন ক্ষত শুকাচ্ছিল ডিএনডির, তখন শ্রাবণের অঝোড় ধারায় বৃষ্টিতে ফের বাড়ী ঘরসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো প্লাবিত হয়ে গেছে।

কিন্তু প্রায় ২০ লাখ ডিএনডিবাসীকে ‘অভিশাপ মুক্ত’ করতে বর্তমান সরকার গত বছর একনেকে প্রায় ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প পাশ করলেও নানা কারনে তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

যেই কারনে এখন ‘অভিশাপ মুক্ত’ হতে সেনাবাহিনী দ্বারা প্রকল্প বাস্তবায়নটাকেই ‘ভরসা’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান প্রায় মাস খানেক যাবত জলাবদ্ধ অবস্থায় দূর্ভোগ পোহানো ডিএনডিবাসী। তাদের মতে ডিএনডির জলাবদ্ধতা দূরীকরনে সরকার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, কেবল এটির সঠিক বাস্তবায়ন হলেই ভবিষ্যতে দূর্ভোগ মুক্ত হতে পারবে এই জোনের প্রায় ২০ লাখ অধিবাসী।

ডিএনডির প্রকল্প পরিচালক মো: আব্দুল আউয়াল জানান, ‘আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই ডিএনডির অভ্যন্তরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here