নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশের নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে একশত বেত্রাঘাত, অপর এক যুবককে একশত বার কান ধরে উঠবস করানো এবং এক লক্ষ আশি হাজার টাকা জরিমানার করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চেয়ারম্যানের বেত্রাঘাতের শিকার মোহাম্মদ আবু রায়হান নামের স্থানীয় এইচএসসি পরীক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নির্মম নির্যাতনের বিষয়ে সাংবাদিকদের তুলে ধরেন।

আবু রায়হান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আলীরটেক ইউনিয়নের মুক্তারকান্দি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় বাসিন্দা। গত ৪ মে বৃহস্পতিবার রাতে তার ছোট বোনের বিয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান থেকে বর পক্ষের লোকজন বিদায় নিয়ে ফেরত যাওয়ার সময় স্থানীয় এলাকার খবির উদ্দিন, নওয়াব মিয়ার ছেলে মাহবুব ও মুন্নার ছেলে আল-আমিন মদপান করা অবস্থায় বরের ছোট বোনকে উত্যক্ত করে ইভটিজিং করতে থাকে। মেয়েটি এর প্রতিবাদ করলে তার মাথার চুল ধরে মারতে থাকে।

এ সময় মেয়ের ভাইয়েরা সামনে এসে তাদেরকে বাধা দিলে মাহবুব, আল-আমিন ও খবির উদ্দিন মিলে তাদেরকে মারধর করতে থাকে। এ সময় আমরা দৌঁড়ে গিয়ে তাদেরকে বোঝাতে থাকি এরা আমাদের এলাকার মেহমান, এদের সাথে এমন আচরন করা ঠিক নয়।

পরবর্তীতে নোয়াব মিয়ার তার ছেলে মাহবুব, হাবিবসহ নোয়াব মিয়ার দুই স্ত্রীর  সাত ছেলে, মুন্নার ছেলে আল-আমিন সহ মেহমানদের যেতে দেওয়া হবেনা বলে তাদের পথরোধ করেন। এ বিষয়ে এক পর্যায়ে আবু রায়হানের পরিবারের সাথে সন্ত্রাসীদের বাক-বিতন্ডা ও হাতাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ত্রাসীরা লাঠিসেটা, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিয়ে তাদেরকে আক্রমন করলে তারা দৌঁড়ে গিয়ে তাদের বাড়িতে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় তারা তাদের ঘরে প্রায় দুইঘন্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে। মূল হামলাকারী নোওয়াব মিয়া চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির আপন খালাতো ভাই।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যান মতিউর রহমানকে জানালে ঘটনার পরদিন ৫ মে  মতি চেয়ারম্যান তাদের বাড়িতে গিয়ে তার ফুফাতো ভাই, ভাতিজা ও তাদের সহযোগীদের নাম বাদ দিয়ে শুধু মাত্র খবির উদ্দেনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করতে বলে। খবির উদ্দিন ঘটনার পর পরই আমাদের কাছে মাফ চাওয়ায় আমরা খবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হইনি। আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে জানতে চাইলাম কেন আমাদের উপর এতো অন্যায় আর অত্যাচার করা হলো আবার কেন উল্টো আমাদেরই বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জহ সদর থানায় মামলা দেওয়া হলো।

বিচারে বসার জন্য চেয়ারম্যান সাহেব বার বার চাপ দিতে থাকলে গত ১৯ মে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিচারের জন্য ডাকেন চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি। বিচারে গেলে চেয়ারম্যান আমাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে প্রতিপক্ষের এক তরফা কথা শুনে রায় দেন। রায়ে আমাকে (আবু রায়হান) একশত বেত্রঘাত এবং আমার চাচাতো ভাইকে একশত বার কানধরে উঠবস করানো এবং একলক্ষ আশি হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় চেয়ারম্যান মতি ঘোষণা করেন যদি কেউ কান ধরে উঠবস করানোর ছবি মোবাইলে ভিডিও করে তাহলে তার হাত কেঁটে দেওয়া হবে। এ সময় আমাকে দেয়ালের দিকে মুখ করে দুই হাত উপরে তোলে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। এরপর চেয়ারম্যানের লোক নুরুল ইসলাম মাতবর আমাকে পেছন থেকে প্রচন্ড ভাবে বেত্রাঘাত করতে থাকে। আমি এবারের এইচ এসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় আমার বাবা ও ভাই বেত্রাঘাত না করতে অনুরোধ করলেও তারা শোনেন নি। পরে বিচারের টাকা এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে অন্যথায় গ্রাম ছাড়া করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান মহিউর রহমান মতি এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন এসপি সাহেব আমার খুবই ঘনিষ্ঠ লোক। পুলিশ আমার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিবে না। এছাড়া চেয়ারম্যানের ভাই নোয়াব ও তার বাহিনীর লোকেরা বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাড়িতে থাকতে পারছিনা। যে কোন মুহুর্তে তারা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

এ ব্যাপারে তারা নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ ও নারায়গঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছে। সদর থানা পুলিশ এ বিষয়ে তাদের কোন প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করেনি বলে জানায় তারা। এই অমানবিক আচরনের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবু রায়হান ও তার পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here