নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অবশেষে ২৯ মার্চে ঢাকায় জনসভার অনুমতি না পাওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। হামলা মামলায় নাজেহাল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের কর্মসূচিতেই পাঁচ দশ মিনিটের বেশী পালন করতে পারেন না, সেখানে ঢাকার জনসভায় যোগ দেওয়া এই মুহুর্তে তাদের জন্য মরার উপর খরার ঘায়ের মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছিলো। কিন্তু প্রশাসন চতুর্থ বারের মত বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় অবশেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো শীর্ষস্থানীয়রা বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল।

সূত্রে প্রকাশ, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর আজ অবধি আর ক্ষমতার স্বাদ পায়নি দলটি। এতো দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা ছিলো না দলটির নেতাকর্মীদের। তাই এ সময়টাতে রাজনৈতিক মামলা হামলায় নাজেহাল হয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দিশেহারা হয়ে পরেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকদের নামেও একাধীক মামলায় জামিন নিয়ে ঘর বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে উপলক্ষ্য করে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আর এ সময়ই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা শুরু করে।

সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিলো ৮ ফেব্রুয়ারী। রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই ‘আমার নেত্রী, আমার মা, বন্দি হতে দেবো না’ শ্লোগানে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গরম করে রেখেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। আর এই রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় শতাধীক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। আর এসব মামলা হামলার ভয়ে নেত্রীর মুক্তির দাবীতে ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকেই পাঁচ দশ মিনিটের ফটোসেশন প্যাকেজ বানিয়ে ফেলেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। তাই ঢাকার জনসভায় শোডাউন করাটা তাদের উপর বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দিয়েছিলো।

কেননা, নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আয়োজিত কর্মসূচীতেই আদৌ এক হতে পারেনি জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটির নেতৃবৃন্দরা। তন্মধ্যে পুলিশের চাপে দুই থেকে পাঁচ মিনিটেই কর্মসূচি শেষ করে ফেলায় বিতর্কের মুখে পড়েন শীর্ষস্থানীয়রা।

এরই মাঝে নেত্রীর মুক্তির দাবীতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্র সমাবেশের ঘোষণা দেয়ায় বাড়তি চাপে পড়ে যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কিন্তু শেষতক ২৯ মার্চের জনসভাও কেন্দ্র স্থগিত করায় এখন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বলে মন্তব্য করে তৃণমূল।

বুধবার (২৮ মার্চ) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে ২৯ মার্চের জনসভা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

এর আগে তিন দফায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও অনুমতি পায়নি দলটি। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় ডাকা কর্মসূচির অনুমতি পেলো না বিএনপি।

রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে ১২ ও ১৯ মার্চ জনসভা করতে পুলিশের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তার অজুহাতে বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। এরপর আবারও ২৯ মার্চে সমাবেশ করতে বেশ কয়েকদিন আগে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়।

মঙ্গলবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বৈঠকের পর আমরা বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম সরকার জনসভার অনুমতি দিবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবারই সাংবাদিকদের বলেছেন- গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জনসভার অনুমতি দিবে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে দেশ চালাচ্ছে পুলিশ। আওয়ামী লীগ ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেই দেশটা এখন পুলিশের কব্জায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here