নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: স্ত্রীর জন্য নিজের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে উল্টো আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার আসামী বনে গেলেন নারায়ণগঞ্জের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক মামুন মিয়া (৪০) ওরফে কাইল্যা মামুন।
বন্দর থানাধীন সাবদী দিঘলদী এলাকার সনাতন ধর্মালম্বী হোটেল মালিক প্রাণ বল্লভ সরকারের আত্মহত্যার ঘটনায় মামুনের বিরুদ্ধে গত ২৪ আগষ্ট রাতে বন্দর থানায় এই আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি দায়ের করেন আত্মহননকারী হোটেল মালিকের বড় পুত্র শম্ভু সরকার (৩৫)।

মামলার এজাহারে বাদী শম্ভু সরকার উল্লেখ করেন, বন্দর থানাধীন দিঘলদী সাকিনে বাশ ঝাড়তলা অটোস্ট্যান্ড সংলগ্নে তাদের একটি খাবার হোটেল আছে। যেই হোটেলটি তাহার স্বর্গীয় পিতা প্রাণ বল্লভ সরকার পরিচালনা করতেন। গত ২৩ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৮টায় পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা মোসাম্মৎ রেশমা আক্তার (৩৫) তার স্বামী সাংবাদিক মামুন মিয়া কে সাথে নিয়ে তাদের দোকানে নাস্তা কিনতে আসেন। কিন্তু তখন দোকানে কাস্টমারের ভীড় থাকায় তাদের নাস্তা ডেলিভারী দিতে দেরী হওয়ায় রেশমা আক্তার তার স্বামীকে নিয়ে বাসায় চলে যায়।

এরপর রেশমার স্বামী সালাউদ্দিনের পুত্র সাংবাদিক মামুন মিয়া (৪০) ওরফে কাইল্যা মামুন নাস্তা দিতে দেরী হওয়ার কারনে নিজ স্ত্রীর কাছে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় উক্ত হোটেলে গিয়ে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য কাস্টমার ও স্থানীয় লোকজনদের সামনে হোটেল মালিক প্রাণ বল্লভ সরকারের শার্টের কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে এনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ দুই গালে ৩/৪টি চড় থাপ্পড় মারেন।

আর কাইল্যা মামুনের দ্বারা সকলের সামনে অপদস্তের শিকার হয়ে উক্ত অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে একইদিন সকাল ১০টায় হোটেলের ভিতরেই কীটনাশক জাতীয় বিষাক্ত দ্রব্য সেবন করে প্রাণ বল্লভ সরকার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করেন তাঁহার বড় পুত্র ও মামলার বাদী শম্ভু সরকার।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তাঁর পিতার কীটনাশক পানের বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতাল ভিক্টোরিয়ায় নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা আশংকাজনক দেখে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু ঢামেকে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর শারীরিক অঙ্গপ্রতঙ্গ চলাচল নিস্তেজ হয়ে পড়লে তখন তাকে আগে খানপুর ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বাবা প্রাণ বল্লভ সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী শম্ভু সরকার অভিযোগ করেন, বিবাদী মামুন মিয়া তার পিতা প্রাণ বল্লভকে মারধর করে অপমান করায় এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ায় ক্ষোভ সহ্য করতে না পেরে তার বাবা আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার সত্যতা বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, ‘মামলাটি তদন্তপূর্বক দোষী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে দ্রæতই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here