নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের নির্দেশনার কোন তোয়াক্কা না করে রাস্তার দুই পাশে বাস পার্কিং করে রেখে সড়কের বেশীরভাগ অংশ দখল করে রাখছে হিমাচল পরিবহন, যা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে নগরবাসীর মনে। সেই সাথে এমপি’র নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। হিমালয় পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পরেছে বলে অভিমত ভুক্তভোগী নগরবাসীর। আর তাই অবিলম্বে নগরবাসীকে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে নারায়ণগঞ্জের সকল বাস, মিনিবাস, ট্রাক মালিক শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সকল কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে করা এক মত বিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান বলেছিলেন, শহরের উপর মেট্রো সিনেমা হলের পাশে অবস্থিত হিমাচল পরিবহনের কাউন্টারের সামনে শুধুমাত্র একটা বাস দাঁড়িয়ে থাকবে যাত্রী তুলতে। যাত্রী তোলা হয়ে গেলে সে বাসটি শহর ত্যাগ করবে আর অপর আরেকটি বাস প্রবেশ করবে। কোন অবস্থায়ই একসাথে দুটি বা তার বেশী বাস যাতে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থেকে সড়ক সংকীর্ণ করতে না পারে। এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে সংশিষ্ট ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশও দিয়েছিলেন।


কিন্তু সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে দেখা গেছে, মেট্রো সিনেমা হলের সামনের কাউন্টার থেকে শুরু করে আমলাপাড়া স্কুলের সামনে পর্যন্ত আর রাস্তার অপর পাশে ডন চেম্বর থেকে শুরু হয়ে খানপুর জোড়া টাঙ্কি পর্যন্ত দুই সারিতে থামিয়ে রাখা হয়েছে হিমাচল পরিবহনের প্রায় ১৫/২০টি বাস। ফলে প্রশস্ত এই সড়কটি একেবারেই সংকুচিত হয়ে পরেছে আর সে সংকির্ণ রাস্তা দিয়েই যানবাহন চলাফেরা করছে। যেনো অনেকটা মগের মুল্লুকের মতো অবস্থা। জনগনের চলাচলের রাস্তাকেই তারা বাস স্ট্যান্ড বানিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে বাস কাউন্টারে জিজ্ঞেস করা হলে তারা মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু মালিক পক্ষের কারো নাম বা ফোন নাম্বার তাদের কাছে নেই বলে জানান।

এদিকে হিমাচল পরিবহনের এভাবে সড়ক দখল করে বাস স্ট্যান্ড বানানোর বিষয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নগরবাসীর মনে। তারা ব্যস্ত এ সড়ক থেকে অবিলম্বে হিমাচলের কাউন্টার প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন আর এ জন্য এই এলাকার সাংসদ ও সিটি মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নগরবাসী মনে করে, এমপি মেয়র মিলে নিতাইগঞ্জের বহু বছরের জঞ্জাল পরিস্কার করতে পারলে, হিমাচল পরিনবহনের জিম্মি দশা থেকেও নগরবাসীকে মুক্ত করতে পারবে।


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আব্দুর রশিদ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, এটা শুধুমাত্র ট্রাফিক বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব না। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তবে তাতেও কোন লাভ হবে বলে আমি মনে করিনা। কারন প্রকৃত সমাধান পেতে হলে রাস্তার উপর বাস রাখা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। রাস্তার উপর কোন বাস রাখাই চলবে না। আর তার জন্য প্রতিটি পরিবহন কতৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পাকিং ব্যবস্থা তৈরী করে দিতে হবে। অন্যথায় দুএকটি মোবাইল কোর্ট চালিয়ে জেল জরিমানা করে সাময়িক সমাধান হয়তো সম্ভব, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here