প্রেস বিজ্ঞপ্তি: রানা প্লাজা ধ্বসের ৫ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে ২৪ এপ্রিলকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, দায়ী মালিকসহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণের দাবীতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫টায় শিবু মার্কেটে শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট আঞ্চলিক শাখার সংগঠক মোহসিন হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম. এ. মিল্টন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ, দপ্তর সম্পাদক কামাল পারভেজ মিঠু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সংগঠক করুনা, জোৎ¯œা, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ৪০লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সমস্ত শ্রমজীবি মানুষের জন্য এক ভয়াবহ শোক ও বেদনার দিন। এখন থেকে ৪ বছর পূর্বে সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে ১১৩৭জন নিহত, ২৫০০ জন পঙ্গু ও ৩০০ শ্রমিক নিখোঁজ হয়। মালিকের অবহেলায় গার্মেন্টস শিল্পে সারা দুনিয়ায় এতবড় হত্যাযজ্ঞ আর হয়নি। আর এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ীদের বিচার কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ভবনের মালিক কারাগারে থাকলেও গার্মেন্টস মালিক ও দায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নিহত-আহত শ্রমিকদের সরকারী ত্রান তহবিল, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে দান অনুদান দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ কোন দান নয় অধিকার। মালিকের সমস্ত সম্পত্তি ক্রোক করে হলেও নিহত আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ১৮৫৫ সালের ঋধঃধষ ধপপরফবহঃ অপঃ অনুযায়ী তার খড়ংং ড়ভ বধৎহরহম বিবেচনা করলে প্রত্যেক শ্রমিক ন্যূনতম ৪৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে। আর কোনও রানা প্লাজা দূর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য মালিকসহ দায়ী সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ২৪ এপ্রিল গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিব ঘোষণা করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, জিডিপি ৭ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলারে উন্নিত হয়েছে এবং এটা ক্রমবর্ধমান। জাতীয় আয় এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালনকারী শ্রমিকদের মজুরি তার সাথে সঙ্গতি রেখে নির্ধারণ হবে এটা একটি যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা। সেক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি কত হবে এটা মালিকের দয়া বা করুণার ব্যাপার নয়, এটা শ্রমিকের অধিকার। তাই মজুরি নির্ধারণের একটা যুক্তিসঙ্গত মানদ- থাকতে হবে। শ্রমিকের প্রধান সম্পদ তার কর্মক্ষমতা। তার কর্মক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সে যা আয় করে তা দিয়ে তার সংসার চালাতে হয়। কর্মক্ষম মানুষের কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য যেটুকু ন্যূনতম খাবার প্রয়োজন তার মূল্য, বাড়ি ভাড়া, পোশাক, চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ ইত্যাদি ধরলে মাসে ৫ জনের দরিদ্র পরিবারের যে খরচ হয় তা হিসাব করলে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর মাসিক আয় কোনভাবেই ১৮ হাজার টাকার কম হতে পারে না। পে-স্কেলে ঘোষিত ন্যূনতম মোট মজুরি, দেশের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র গবেষণা, আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠান অক্সফামের গবেষণা, বিদেশী অন্যান্য গার্মেন্ট উৎপাদনকারী দেশের ন্যূনতম মজুরি ইত্যাদি পর্যালোচনা করলেও দেখা যাবে আমাদের দেশের পোষাক শিল্পে ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকার কম করার কোন কারণ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here