নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মাত্র ৩ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটির কাছেই ধরাশাঁয়ী হয়ে গেছে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর আওয়ামীলীগ বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আর এতে করে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে মহানগর আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মাঝে।

জানাগেছে, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

আর বিগত ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন কে সভাপতি ও এড. খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর মহানগর কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এরপর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে দরকে আরো সুসংগঠিত করে গড়ে তুলতে চলতি বছরের ২০ মে গণভবনে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

পরবর্তীতে এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাত ৩ সদস্যের জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটির নেতৃবৃন্দরা বেশ জাঁকজমক ভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের নারায়ণগঞ্জে এনে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করান।

গত ৩০ জুলাই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি। আর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অথচ, তার পূর্বেই গত ২০ মে গণভবনে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর নপ্রায় ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৭ টি ওয়ার্ডে আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগ।

কিন্তু আহ্বায়ক কমিটি গঠন তো দূরের কথা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে উল্টো বন্দর থানাধীন ৯টি ওয়ার্ডে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে ‘চুপিসারে’ নতুন সদস্য সংগ্রহ করণে বই প্রদানের অভিযোগ করে তৃণমূল আওয়ামীলীগ।

তন্মধ্যেই গত ৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপিকে প্রধান অতিথি করে মহানগর আওয়ামীলীগ আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করার আয়োজন করলেও পরবর্তীতে অনিবার্য কারন বশ:ত সেই অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়।

এরপরেও তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা প্রত্যাশা করেছিলেন, দেরীতে হলেও আনুষ্ঠানিক ভাবেই দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ণ কার্যক্রম হয়তো বা শুরু করবে মহানগর আওয়ামীলীগ, কিন্তু সেটির পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক ভাবেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বই বিতরন করে ‘চুপিসারে’ দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ করে, বন্দর থানাধীন সিটির ৯ টি ওয়ার্ডে প্রকৃত নেতাদের কাছে বই বিতরন না করে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহের বই দেয়ায় মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে রীতিমত প্রতিবাদ সভাও করে ফেলেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

গত ২২ অক্টোবর বিকেলে নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড নবীগঞ্জে মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে এম এ রশীদ মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বন্দরে ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতাদের না জানিয়ে ‘হাইব্রীড’ নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহ বই তুলে দেওয়ার ঘটনায় বেশ মর্মাহত হয়েছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা। মহানগরের দায়িত্বশীল কতিপয় নেতা’র এমন আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এনিয়ে যদি কোন উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়ভার মহানগর আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।’

তবে তৃণমূলের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা উল্টো দাবী করেন, ‘বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি হচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের অধীন। তাই তিনি নাকি মহানগর আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন কথা বলার এখতিয়ারই রাখেন না।’

আর কোনরকম অনুষ্ঠান ব্যাতীতই দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা প্রসঙ্গে এড. খোকন সাহা বলেন, ‘দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সময় পাওয়া না যাওয়ায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বই বিতরনের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক ভাবেই এই কার্যক্রম শুরু করে দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, অনানুষ্ঠানিক ভাবেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বই বিতরনের মাধ্যমে ‘চুপিসারে’ দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দেয়ায় তৃণমূল নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হলেও কার্যত সভাপতি আনোয়ার হোসেন হচ্ছেন কমিটিতে থাকা একটি শো-পিস আর অন্যান্যরা হচ্ছেন তার সাথেই বুলি আওয়ানো জি¦ হুজুর জাতীয় নেতৃবৃন্দ। যার ফলে এক খোকন সাহা যেভাবে চাইছেন, নিজের মনমত দলীয় সাংগঠনিক সকল কাজ করে যাচ্ছেন। যার প্রমাণ, দলের মধ্যে ‘হাইব্রীড’ ঠেকানোর পরিবর্তে বন্দর থানাধীন ৯টি ওয়ার্ডে ‘হাইব্রীড’ নেতাদের কাছেই বই প্রদানের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহের দায়িত্বভার প্রদান।’

অনেকটা আক্ষেপের সুরে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সীমানা জেলা জুড়ে হলেও মাত্র ৩ সদস্যের আংশিক কমিটি দায়িত্ব প্রাপ্তির পর দলীয় সকল কর্মসূচীই বেশ ঘটা করেই পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকা সত্ত্বেও কমিটি ঘোষণার পর অদ্যবধি দলীয় কোন কর্মসূচীতে সকলকে একত্রিতই করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক। যা তাদের চরম ব্যর্থতা এবং আমাদের জন্য লজ্জাকর।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here